দেশ
ড্রাগনকে কড়া জবাব, তিব্বত সীমান্তে ২৭টি জায়গার নতুন নামকরণ করল দিল্লি
প্রকাশিত: ৯ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে বেজিংয়ের ‘মানচিত্র যুদ্ধ’ ও ক্রমাগত চোখ রাঙানির এবার যোগ্য জবাব দিল নয়াদিল্লি। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) সংলগ্ন এবং চিন অধিকৃত তিব্বত সীমান্তবর্তী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ২৭টি গ্রাম, গিরিপথ ও হ্রদের নতুন নামকরণ করল ভারত সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুমোদনক্রমে ‘সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’র নতুন সরকারি মানচিত্রে এই নামগুলি ইতিমধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চিনের তরফে ভারতীয় ভূখণ্ডকে নিজেদের দাবি করার এবং কাল্পনিক নাম দেওয়ার আগ্রাসী কৌশলের পালটা হিসেবেই ভারতের এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ।
কূটনৈতিক মহল মনে করছে, ম্যাকমোহন লাইনের ওপারে এবং এপারে যেভাবে বেজিং একের পর এক ভারতীয় এলাকার নামবদল করছিল, এবার ড্রাগনের চোখে চোখ রেখে তারই প্রত্যাঘাত করল ভারত। ভারতের এই নয়া তালিকায় স্থান পেয়েছে পূর্ব অরুণাচলের উচ্চ-উচ্চতার হ্রদ ‘সম্ভো সরোবর’, ‘বারা কুন্দুন’, ‘ছোট কুন্দুন’-এর মতো প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যযুক্ত অঞ্চলসমূহ। পাশাপাশি ১৯৬২ সালের যুদ্ধের বীর শহিদ জসবন্ত সিং রাওয়াতের স্মৃতি বিজড়িত ‘জসবন্ত গড়’ এবং ত্রিলোক সিং থাপার সম্মানে ‘শের-ই-থাপা মেমোরিয়াল’-এর মতো স্থানগুলির ঐতিহাসিক গুরুত্বকেও এই মানচিত্রে মান্যতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সাগর, পদ্মা, জ্যোতি নগর, শিবাজি নগর ও বৈশাখীর মতো বেশ কিছু সীমান্ত সংলগ্ন গ্রাম ও বসতিকে এই নতুন নামকরণের আওতায় আনা হয়েছে।
নয়াদিল্লির সাউথ ব্লক স্পষ্ট জানিয়েছে, চিনের এই কাল্পনিক নাম দেওয়ার অভ্যাস আসলে একটি ভিত্তিহীন ন্যারেটিভ তৈরি করার মরিয়া চেষ্টা। যা বাস্তবতা বা বাস্তব পরিস্থিতিকে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন করতে পারবে না। অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও সার্বভৌম অংশ ছিল এবং থাকবে। চিনের পক্ষ থেকে ২০১৭, ২০২১ এবং ২০২৩ সালে দফায় দফায় অরুণাচলের বিভিন্ন জায়গার নাম পরিবর্তন করে চিনা নাম রাখার যে ঔদ্ধত্য দেখানো হয়েছিল, ভারতের এই প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক পদক্ষেপ তার মোক্ষম প্রত্যুত্তর। এই পদক্ষেপের ফলে এলএসি বরাবর ভারতের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত হল বলেই মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

