মাইক্রোসফ্টে বিশ্বজুড়ে চাকরি হারাচ্ছেন ৪৮০০ কর্মী
নিজস্ব প্রতিনিধি: চ্যাটজিপিটি বা ওপেন এআই-এর হাত ধরে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল, তা কি এবার সাধারণ মানুষের রুজি-রুজির ওপর বড়সড় আঘাত হানতে শুরু করল? এই প্রশ্নটাই আবার নতুন করে উস্কে দিল দুনিয়াখ্যাত তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ‘মাইক্রোসফ্ট’ (Microsoft)। বিশ্বজুড়ে এক ধাক্কায় নিজেদের মোট কর্মীবাহিনীর ২.১ শতাংশ ছাঁটাই করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই মার্কিন টেক জায়ান্ট। সংস্থার এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের জেরে রাতারাতি কর্মহীন হতে চলেছেন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ৪,৮০০ কর্মী।
কেন এই গণ-ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত? মনে করা হচ্ছে, ব্যবসার গতিপ্রকৃতি বদল এবং প্রযুক্তির আধুনিকীকরণের স্বার্থেই এই কঠোর পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। বর্তমানে বিশ্ব বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘জেনারেটিভ এআই’ প্রযুক্তির ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে গেছে। যে কাজ আগে একঝাঁক ইঞ্জিনিয়ার বা কোডার মিলে করতেন, এখন এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তা নিমেষের মধ্যে অনেক কম খরচে করা সম্ভব হচ্ছে। ফলস্বরূপ, খরচ কমাতে এবং এআই-কেন্দ্রিক প্রজেক্টে বেশি বিনিয়োগ করতেই এই বিপুল সংখ্যক কর্মীকে বাতিলের খাতায় ফেলা হলো।
মাইক্রোসফ্টের এই ছাঁটাইয়ের কোপ শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন শাখাতেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে চলেছে। বিশেষ করে ভারতের বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ বা পুনের মতো আইটি হাবগুলোতে কর্মরত মাইক্রোসফ্টের ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যেও এখন তীব্র ছাঁটাই-আতঙ্ক দানা বেঁধেছে। কারণ, বিশ্বজুড়ে হওয়া এই ২.১ শতাংশ ছাঁটাইয়ের তালিকায় কতজন ভারতীয় কর্মী রয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট করেনি সংস্থাটি।
গুগল, মেটা এবং আমাজনের পর এবার মাইক্রোসফ্টের মতো প্রথম সারির সংস্থার এই সিদ্ধান্ত তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে এক গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী দিনে এআই যত উন্নত হবে, সাধারণ ডেস্ক জবের চাহিদা তত কমবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের পরিপূরক হবে নাকি মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে—এই চিরন্তন বিতর্ককে আরও একবার উস্কে দিল মাইক্রোসফ্টের এই ৪৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর।

