দেশ
ধর্মান্তরণের চাপ প্রত্যাখ্যান, ছাত্রীকে পিটিয়ে খুন
প্রকাশিত: ১০ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: উজবেকিস্তানে পড়তে গিয়ে চরম নৃশংসতার শিকার হলেন এক ২১ বছর বয়সী ভারতীয় তরুণী। ধর্মান্তরিত হতে রাজি না হওয়ায় সহপাঠীর মারে তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। মৃত তরুণীর নাম সাভারিয়া বসন্ত। তিনি ভারতের কেরল রাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাদারুল আনম নামের এক অভিযুক্ত ভারতীয় ছাত্রকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিদেশের মাটিতে এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
মৃতার পরিবারের দাবি এবং তদন্তকারী অফিসারদের সূত্র অনুযায়ী, ঘটনার দিন সাভারিয়া ও সাদারুলের মধ্যে কোনও একটি বিষয় নিয়ে তীব্র উত্তপ্ত বচসা শুরু হয়। ঝগড়া চলাকালীনই সাদারুল আচমকা সাভারিয়ার ওপর চড়াও হয়ে তাঁকে নৃশংসভাবে মারধর করেন। সেই আঘাতের চোটেই মৃত্যু হয় কেরলের ওই ছাত্রীর। তবে ঠিক কী কারণে এই খুন, তা নিয়ে প্রথমে ধোঁয়াশা থাকলেও বহু প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে একটি হাড়হিম করা তথ্য সামনে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শী বেশ কয়েকজন পড়ুয়া জানিয়েছেন, ঘটনার আগে সাভারিয়াকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করার জন্য লাগাতার চাপ দিচ্ছিলেন অভিযুক্ত সাদারুল।
জানা গিয়েছে, ক্যাম্পাসের বেশ কয়েকজন পড়ুয়ার চোখের সামনেই এই ধর্মান্তরণের চাপ ও বচসার ঘটনাটি ঘটে। কিন্তু সাভারিয়া সেই প্রস্তাবে কোনোভাবেই রাজি হননি। নিজের ধর্মে অনড় থাকার জেরেই ক্ষিপ্ত সাদারুল তাঁকে পিটিয়ে খুন করেন বলে অভিযোগ। উজবেকিস্তানে ভারতীয় দূতাবাসের কর্মীরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁদেরও এই ধর্মান্তরণের চাপের বিষয়টি বিশদে জানানো হয়েছে। ভারতীয় প্রশাসন ও দূতাবাস ইতিমধ্যেই উজবেক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

