জেলা
বকখালিতে বান্ধবীকে খুন করে পুঁতে গ্রেফতার
প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, ফ্রেজারগঞ্জ: বকখালিতে বেড়াতে নিয়ে গিয়ে বান্ধবীকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। শুধু খুনই নয়, অপরাধের প্রমাণ লোপাট করতে মৃতদেহটি সমুদ্রসৈকতের বালির নীচে পুঁতেও রাখা হয়েছিল। নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ তিন সপ্তাহ পর অবশেষে বকখালির হেনরি আইল্যান্ড লাগোয়া গভীর জঙ্গল থেকে ওই মহিলার পচাগলা দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম জিয়ারুল সরদার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের বকুলতলা থানা এলাকার বাসিন্দা ওই মহিলার সঙ্গে জিয়ারুলের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন ও তীব্র অশান্তি চলছিল। গত ২৬ মে আচমকাই ওই মহিলা নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের পক্ষ থেকে বহু খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো হদিশ না মেলায় শেষ পর্যন্ত বকুলতলা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ মহিলার মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখে জিয়ারুল সরদারের হদিশ পায়। এরপর গত বৃহস্পতিবার সকালে জয়নগর এলাকা থেকেই জিয়ারুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে তদন্তকারীরা।
পুলিশি জেরার মুখে আর বেশিক্ষণ নিজের অপরাধ চেপে রাখতে পারেনি অভিযুক্ত যুবক। ভেঙে পড়ে সে নিজেই বান্ধবীকে শ্বাসরোধ করে খুনের কথা স্বীকার করে নেয়। পুলিশকে জিয়ারুল জানায় যে, ২৬ মে সে বান্ধবীকে নিয়ে বকখালিতে বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানে হেনরি আইল্যান্ডের নির্জন সমুদ্রসৈকতের কাছে গভীর জঙ্গলে সে বান্ধবীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং প্রমাণ মুছতে বালি ও মাটি খুঁড়ে দেহটি চাপা দিয়ে দিয়ে বাড়ি ফিরে আসে।
শুক্রবার ধৃত জিয়ারুলকে সঙ্গে নিয়ে বকুলতলা ও ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার পুলিশ বকখালির ওই নির্জন সৈকতে পৌঁছায়। অভিযুক্তের দেখিয়ে দেওয়া নির্দিষ্ট জায়গায় মাটি ও বালি খুঁড়তেই উদ্ধার হয় মহিলার পচাগলা মৃতদেহ। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কাকদ্বীপ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এই নৃশংস খুনের ঘটনায় জিয়ারুলের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে গোটা বকখালি ও জয়নগর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

