জেলা
ক্লাবের টাকা তছরুপ, জেলা পরিষদ কর্মাধ্যক্ষ গ্রেপ্তার
প্রকাশিত: ২৩ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাবড়া: ক্লাবের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের কৃষি ও সেচ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ জ্যোতি চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করল হাবড়া থানার পুলিশ। সোমবার ধৃত তৃণমূল নেতাকে বারাসত আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় থানা চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশি গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার পাশাপাশি ‘চোর চোর’ স্লোগান তুলে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী ও ক্ষুব্ধ ক্লাব সদস্যরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জ্যোতি চক্রবর্তী হাবড়ার নারায়ণপুর সেবা সংঘের সম্পাদক ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওই ক্লাবেরই প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, হিসাব চাইতে গেলে ক্লাব সদস্যদের হুমকি দেওয়া ও মারধরের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে রবিবার রাতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
সোমবার দুপুরে জ্যোতি চক্রবর্তীকে যখন হাবড়া থানা থেকে বারাসত আদালতে স্থানান্তরের জন্য প্রিজন ভ্যানে তোলা হচ্ছিল, তখনই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মীরা। প্রিজন ভ্যানটি এগোতেই চারদিক থেকে ডিম ছুড়তে শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। একই সঙ্গে ধৃত নেতার দিকে আঙুল তুলে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়।
প্রাথমিকভাবে ক্লাবের ২৭ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সামনে এলেও, পুলিশের কাছে জমা পড়া নথিতে জানা গিয়েছে যে জ্যোতির বিরুদ্ধে নারায়ণপুর সেবা সংঘের মোট ২৭ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং টানা দু'বারের এই জেলা পরিষদ কর্মাধ্যক্ষ নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্লাবের তহবিল আত্মসাৎ করছিলেন বলে অভিযোগ।
পুলিশ জানিয়েছে, আর্থিক প্রতারণা, মারধর ও হুমকির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এই দুর্নীতির পেছনে আরও কারও যোগ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

