জেলা
ঘাটালে অষ্টম শ্রেণির ‘দাদাগিরি’তে রক্তাক্ত খুদেরা
প্রকাশিত: ২২ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদন, ঘাটাল: দাদাগিরি শব্দটির সঙ্গে সাধারণত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম জড়িয়ে থাকে। কিন্তু এবার সেই চেনা পরিধি পেরিয়ে স্কুলস্তরেও থাবা বসাল এই কালচার। পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল মহকুমার একাধিক স্কুলে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের হাতে চরম হেনস্থা ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির খুদে ছাত্ররা। স্কুল চলাকালীন তো বটেই, এমনকি হস্টেলের বন্ধ ঘরেও চলছে এই ঘৃণ্য অত্যাচার। এই ঘটনায় ঘাটাল জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে অভিভাবকদের মধ্যে।
অভিযোগ, টিফিনের সময়ে বা ক্লাসের ফাঁকে নীচু ক্লাসের ছাত্রদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাচ্ছে অষ্টম শ্রেণির একাংশ পড়ুয়া। কখনও তাদের জোর করে গোপনাঙ্গ দেখাতে বাধ্য করা হচ্ছে, আবার কখনও চলছে বেধড়ক মারধর। অত্যাচারের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে, সিনিয়রদের মারে ইতিমধ্যেই এক খুদে পড়ুয়ার হাত ভেঙেছে। অন্য এক ছাত্রের গোপনাঙ্গে এতটাই জোরালো আঘাত করা হয়েছে যে, তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দিনের পর দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছে। স্কুল চত্বরে বাচ্চাদের নিরাপত্তা নিয়ে এখন ত্রস্ত সাধারণ মানুষ থেকে অভিভাবকরা।
এই অমানবিক ঘটনাকে কেবল ‘বাচ্চাদের দুষ্টুমি’ বা কোনো মানসিক সমস্যা বলে হালকাভাবে ওড়াতে নারাজ চিকিৎসকেরা। কলকাতার এসএসকেএম (পিজি) হাসপাতালের বিশিষ্ট সাইকিয়াট্রিস্ট সুমেধা রায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এগুলি আদতে দাদাগিরি ছাড়া আর কিছুই নয়।” তাঁর মতে, যদি কোনো একটি নির্দিষ্ট পড়ুয়া ধারাবাহিকভাবে একা এই ধরনের আচরণ করে, তবেই বুঝতে হবে তার মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু দলবদ্ধভাবে যখন এই কাজ করা হচ্ছে, তখন তা অপরাধমূলক মানসিকতা ও দাদাগিরিরই বহিঃপ্রকাশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, এখন সেটাই দেখার।

