জেলা
জামাইষষ্ঠীতে ‘ঘরের জামাই’ শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু
প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নবদ্বীপ: শনিবার জামাইষষ্ঠী। আপামর বাঙালির ঘরে ঘরে যখন জামাই আদরের ধুম, তখন খোদ শ্রীধাম নবদ্বীপেও চলছে এক অনন্য উৎসবের প্রস্তুতি। কারণ, বছরভর নবদ্বীপে ঈশ্বর রূপে পূজিত হলেও আজকের এই বিশেষ দিনে মহাপ্রভু শ্রীগৌরাঙ্গ শ্রীধামের ‘ঘরের জামাই’। আর সেই কারণেই মহাপ্রভুর সহধর্মিণী বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর বাপের বাড়ি অর্থাৎ গোস্বামী পরিবারে বংশপরম্পরায় এই বিশেষ দিনটি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে উদ্যাপিত হয়ে আসছে। এবারও তার অন্যথা হচ্ছে না।
প্রথা মেনে বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর পরিবারের উত্তরসূরিরা নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও মাঙ্গলিক রীতিনীতির মাধ্যমে দিনটি উদ্যাপন করবেন। আজ নবদ্বীপের মহাপ্রভু মন্দিরে ভক্তি আর স্নেহের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন দেখা যায়। জামাইয়ের আপ্যায়নে থাকছে আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন। শ্বশুরবাড়ির তরফ থেকে নতুন জামাইয়ের মঙ্গল কামনায় সমস্ত নিয়মকানুন পালন করা হচ্ছে। সকাল থেকেই মন্দিরে ভক্তদের ঢল নেমেছে এই বিশেষ রূপের দর্শন পাওয়ার জন্য।
ষষ্ঠীর এই পুণ্যলগ্নে মহাপ্রভুর ভোজের থালায় থাকছে রাজকীয় ব্যঞ্জনের সমাহার। গোস্বামী পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, জামাইয়ের পাত সাজানো হচ্ছে পঞ্চব্যঞ্জনে। মেনুতে থাকছে রাধাবল্লভী, সুগন্ধী গোবিন্দভোগ চালের পোলাও, নানাবিধ ভাজা, ধোকার ডালনা, ছানার কোপ্তা কালিয়া, সুক্তো এবং মোচার ঘণ্টার মতো জিভে জল আনা নিরামিষ পদ। শেষপাতে মিষ্টিমুখের জন্য থাকছে নবদ্বীপের বিখ্যাত লাল দই, রাবড়ি, রসগোল্লা এবং পায়েস।
শত শত বছর ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্য আজও নবদ্বীপের বুকে অমলিন। ঈশ্বরের চেয়েও ঘরের পরম আত্মীয় বা জামাই হিসেবে মহাপ্রভুকে কাছে পাওয়ার এই আনন্দই জামাইষষ্ঠীর দিন নবদ্বীপবাসীকে এক অন্য উৎসবে মাতিয়ে তোলে।

