জেলা
অসুস্থতার কারন দেখিয়ে ইস্তফা দিলেন ঝালদার পুর-প্রধান সুরেশ আগরওয়াল
প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পুরুলিয়ার ঝালদা পুরসভার পুরপ্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুরেশ আগরওয়াল। ঝালদার মহকুমাশাসকের (SDO) কাছে তিনি নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। তবে কেবল পুরপ্রধানের পদই নয়, একই সঙ্গে ঝালদা পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। নিজের ইস্তফাপত্রে এই জোড়া পদত্যাগের কথা স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন সুরেশবাবু।
ঝালদা পুরসভা এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে অত্যন্ত চর্চিত একটি নাম। বিশেষ করে গত পুরভোটের পর থেকেই একের পর এক রাজনৈতিক নাটক ও পালাবদল দেখেছে এই পুরসভা। এই পরিস্থিতিতে সুরেশ আগরওয়ালের মতো প্রবীণ এবং প্রভাবশালী নেতার আকস্মিক ইস্তফা স্থানীয় রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন তৈরি করেছে। শনিবার মহকুমাশাসকের দপ্তরে পদত্যাগপত্র পাঠানোর পাশাপাশি তিনি এর প্রতিলিপি বা কপি পাঠিয়েছেন রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পুরবিষয়ক মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কাছে। এ ছাড়াও ওই দপ্তরের প্রধান সচিব, পুরুলিয়ার জেলাশাসক এবং ঝালদা পুরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিকের কাছেও এই ইস্তফাপত্রের প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন সুরেশবাবু। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চললেও পুরসভার দৈনন্দিন কাজের চাপ ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে ওয়ার্ডের দেখভাল করা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে উঠছিল। সেই কারণেই তিনি এই গুরুদায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে, সুরেশবাবুর এই আচমকা ইস্তফার পর ঝালদা পুরসভার পরবর্তী পুরপ্রধান কে হবেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই গুঞ্জন ও রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। সুরেশবাবুর খালি হওয়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আগামী দিনে উপনির্বাচন করাতে হবে প্রশাসনকে। তবে আপাতত পুরসভার প্রশাসনিক কাজকর্ম সচল রাখতে নিয়মানুযায়ী নতুন উপ-পুরপ্রধান বা অন্য কোনো অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মহকুমা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

