জেলা
সরকারি জমি পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষাধিক টাকা প্রতারণা, গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতার ভাই
প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই এবার মালদহে চরম কোণঠাসা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা হরিশ্চন্দ্রপুরের দাপুটে তৃণমূল নেতা তাজমুল হোসেনের পরিবার। সরকারি জমি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে লক্ষাধিক টাকা জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার হলেন প্রাক্তন মন্ত্রীর ভাই সামিউর রহমান ওরফে জম্মু রহমান। দীর্ঘ দিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় তোলাবাজি, সরকারি জমি দখল ও লাগামহীন সন্ত্রাসের একগুচ্ছ অভিযোগ থাকলেও, রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে এতদিন তিনি অধরাই ছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের। অবশেষে মঙ্গলবার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন যে, সরকারি জমি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন জম্মু রহমান। কিন্তু দীর্ঘ দিন কেটে গেলেও জমি পাননি ওই ব্যক্তি। উল্টে টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁকে মন্ত্রীর ভাইয়ের রোষের মুখে পড়তে হয় এবং লাগাতার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। নিরুপায় হয়ে ওই ভুক্তভোগী হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাজমুল হোসেন মন্ত্রী ও বিধায়ক থাকাকালীন হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায় কার্যত সমান্তরাল প্রশাসন চালাতেন তাঁর ভাই জম্মু। সাধারণ মানুষের জমি দখল থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে তোলা আদায়— সবক্ষেত্রেই তাঁর নাম জড়াত। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার কারণে পুলিশ এতদিন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করতে সাহস পায়নি। কিন্তু সরকার বদলের পর রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট হতেই পুলিশি সক্রিয়তা বাড়ে এবং মঙ্গলবার তাঁকে বাগে আনে পুলিশ।
তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রীর ভাইয়ের এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে মালদহ জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, বিগত সরকারের আমলে এই জম্মু রহমানরা মালদহ জুড়ে যে সীমাহীন দুর্নীতি ও গুন্ডারাজ চালিয়েছেন, তার বিচার এবার শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, এই বিষয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ধৃত জম্মু রহমানকে বুধবারই চাঁচল মহকুমা আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।

