জেলা
তোলাবাজি ও মহিলা হেনস্থার অভিযোগে গ্রেফতার রায়নার দাপুটে তৃণমূল নেতা বামদেব
প্রকাশিত: ২২ জুন, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান: আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তোলাবাজি এবং এক মহিলাকে হেনস্থা করার গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন বর্ধমানের রায়না ১ নম্বর ব্লকের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ বামদেব মণ্ডল ওরফে বামদাস। একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তথা হিজলনা অঞ্চলের তৃণমূলের বিদায়ী সভাপতি নিজামুদ্দিন শেখ ওরফে কাজলকেও। একদা রায়নার ‘ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত এই দাপুটে নেতার গ্রেফতারির খবর চাউর হতেই পূর্ব বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাম আমল থেকেই বামদেব মণ্ডল রায়নার রাজনীতিতে এক পরিচিত নাম। একটা সময় সিপিএমের হাত ধরে রাজনীতি শুরু করলেও পরে তিনি দলবদল করে তৃণমূলে যোগ দেন। বাম জমানায় ‘লাল দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত রায়না এলাকায় তৃণমূলের মাটি শক্ত করার পিছনে বামদাসের বড় ভূমিকা ছিল। রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে বাম আমলেও তিনি একাধিকবার শ্রীঘরে গিয়েছিলেন।
পরবর্তী সময়ে রাজ্যে ‘পরিবর্তনের সরকার’ আসার পরও বিতর্কের পিছু ছাড়েনি তাঁর। তৃণমূল সরকারের প্রথম দফায় রায়না থানার তদানীন্তন ওসি-কে নিগ্রহ করার অভিযোগে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছিল। এই ঘটনার পর দলের অন্দরেই কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েন তিনি। প্রায় পাঁচ বছর রাজনীতিতে কার্যত ‘নিষ্ক্রিয়’ অবস্থায় কাটানোর পর, ২০২১ সালের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে দল তাঁর ওপর ভরসা রেখে ফের রায়নার সাংগঠনিক দায়িত্ব তুলে দেয়।
দলীয় পদে ফেরার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় পুনরায় দাদাগিরি ও ক্ষমতা প্রদর্শনের অভিযোগ উঠছিল। সম্প্রতি এক মহিলাকে হেনস্থা এবং আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে তোলাবাজি করার অভিযোগে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে বামদেব মণ্ডল এবং তাঁর ছায়াসঙ্গী নিজামুদ্দিন শেখকে গ্রেফতার করে। জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের দাবি, আইন আইনের পথেই চলবে, দল কোনো অন্যায় বরদাস্ত করবে না। অন্যদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধী শিবির।

