হট টপিক
‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ খ্যাত পরিচালক অনীক দত্তের রহস্যমৃত্যু, মিলল সুইসাইড নোট
প্রকাশিত: ২৮ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বাংলা চলচ্চিত্র জগতে নক্ষত্র পতন। অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং স্তম্ভিত করার মতো এই খবর। জনপ্রিয় সিনেমা ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’-এর প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্তের রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাটের হিন্দুস্তান পার্ক এলাকায় একটি বহুতল আবাসনের ছাদ থেকে পড়ে যান তিনি। গুরুতর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুরে আচমকাই হিন্দুস্তান পার্কের ওই আবাসনের নিচে ভারী কিছু পড়ার শব্দ হয়। বাসিন্দারা ছুটে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পরিচালককে পড়ে থাকতে দেখেন। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গড়িয়াহাটের থানার পুলিশ এবং লালবাজারের হোমিসাইড শাখার বিশেষ তদন্তকারী দল। পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে ভিডিওগ্রাফি ও প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
তদন্তে নেমে পুলিশ ওই আবাসনের ছাদ থেকে একটি ডায়েরি বা ম্যাগাজিনের খামের ভেতর থেকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সেই নোটে লেখা রয়েছে, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়’। নোটটি তাঁর মেয়ের উদ্দেশ্যে লেখা বলে জানা গিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, পরিচালক ফ্ল্যাটে না গিয়ে সোজা ছাদে উঠে গিয়েছিলেন। প্রাথমিক অনুমান, তিনি দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা এবং তীব্র মানসিক অবসাদের কারণে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত করতে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
অনীক দত্তের এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই টলিউড তথা গোটা বাঙালি সংস্কৃতি মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হাসপাতালে এবং পরিচালকের বাড়িতে ছুটে যান সৃজিত মুখোপাধ্যায়, দেবজ্যোতি মিশ্রসহ বিনোদন জগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। ২০১২ সালে তাঁর পরিচালিত প্রথম ব্যঙ্গাত্মক কমেডি ছবি ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ বক্স অফিসে বিপুল সাড়া ফেলেছিল এবং কাল্ট ক্লাসিকের মর্যাদা পায়। এরপর তিনি ‘আশ্চর্য প্রদীপ’, ‘মেঘনাদবধ রহস্য’, ‘বরুণবাবুর বন্ধু’ এবং সত্যজিৎ রায়ের জীবন অবলম্বনে ‘অপরাজিত’-এর মতো প্রশংসিত ছবি দর্শকদের উপহার দিয়েছিলেন। তাঁর এই অকাল প্রস্থান বাংলা সিনেমার অপূরণীয় ক্ষতি হল।

