সর্বশেষ খবর
কাজের টোপ দিয়ে শান্তিপুরে বধূকে ধর্ষণ
প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নদিয়া: কাজের খোঁজ করতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হলেন এক মহিলা। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তুলে রেখে তা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠল দুই যুবকের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুর থানা এলাকায়। নির্যাতিতা মহিলার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা মহিলা শান্তিপুরেরই বাসিন্দা। কিছুদিন আগে আর্থিক অনটনের কারণে তিনি কাজের সন্ধান করছিলেন। সেই সময়ই তাঁর আলাপ হয় বাবলা-গোবিন্দপুর দক্ষিণ কায়স্থপাড়ার বাসিন্দা শেখর বিশ্বাসের সঙ্গে। অভিযোগ, শেখর তাঁকে ভালো কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এর কিছুদিন পর কাজের বিষয়ে কথা বলার অছিলায় নির্যাতিতাকে আলমারি কারখানার মালিক মানিক দেবনাথের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় শেখর।
অভিযোগ, এরপর থেকেই কাজের টোপ দিয়ে মহিলাকে বিভিন্ন জায়গায় ডাকতে শুরু করে শেখর। গত কয়েকদিন আগে তাঁকে ফুসলিয়ে একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মহিলার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করে শেখর। সেই সময় গোপনে নির্যাতিতার কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও রেকর্ড করে রাখা হয়। পরে সেই ছবি দেখিয়ে মহিলাকে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করে সে।
নির্যাতিতার দাবি, অত্যাচার এখানেই শেষ হয়নি। আলমারি কারখানার মালিক মানিক দেবনাথও একইভাবে তাঁকে একটি গোপন ডেরায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। মানিকও সেই ঘটনার ভিডিও তুলে রাখে। এরপর থেকেই দুই অভিযুক্ত লাগাতার মহিলাকে হুমকি দিতে থাকে যে, মুখ খুললে বা পুলিশকে জানালে সমস্ত ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়া হবে। এমনকি তাঁকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ভয়ে ও লোকলজ্জার আতঙ্কে দীর্ঘদিন চুপ করে ছিলেন নির্যাতিতা। অবশেষে অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তিনি পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। তাঁদের সাহসেই শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মহিলা। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নির্যাতিতার ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

