হট টপিক
অনলাইন এবং অফলাইনে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন করা যাবে: মুখ্যমন্ত্রী
প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: আবশ্যিকভাবে পূরণ করতে হবে 'অন্নপূর্ণা যোজনা'র ফর্ম। বুধবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক থেকে এই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই নতুন প্রকল্পের সুবিধা কারা পাবেন এবং কারা এই তালিকা থেকে বাদ পড়বেন, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে এনেছেন তিনি। সেই সঙ্গেই পূর্ববর্তী সরকারের 'লক্ষ্মীর ভান্ডার' প্রকল্প নিয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, বর্তমান 'লক্ষ্মীর ভান্ডার' প্রকল্পে লক্ষ লক্ষ 'বেনোজল' অর্থাৎ ভুয়ো ও অযোগ্য উপভোক্তা মিশে রয়েছে। বহু মানুষ নিয়ম বহির্ভূতভাবে এই সুবিধা নিচ্ছেন, যার ফলে সরকারের কোষাগার থেকে বিপুল টাকা অপচয় হচ্ছে। এই বেনোজল পুরোপুরি ছেঁটে ফেলাই নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অযোগ্যদের বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও একটি 'বিশুদ্ধ' তালিকা তৈরি করতেই এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার বা অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করা হচ্ছে। যাতে প্রকৃত অভাবী ও যোগ্য মানুষরাই সরকারি সাহায্য পান।
নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের ফর্মটি শুধুমাত্র আর্থিক সাহায্যের আবেদনপত্র নয়, এটি আসলে রাজ্যবাসীর পারিবারিক তথ্যভাণ্ডার। এই ফর্মের মাধ্যমে সরকার প্রতিটি পরিবারের সদস্য সংখ্যা, আর্থিক স্থিতি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে। এর ফলে একদিকে যেমন ভুয়ো উপভোক্তাদের চিহ্নিত করা সহজ হবে, অন্যদিকে তেমনই আসল দরিদ্র পরিবারগুলির কাছে সরকারি পরিষেবা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া যাবে।
কারা এই সুবিধা পাবেন আর কারা পাবেন না, তার একটি প্রাথমিক রূপরেখাও আজ মুখ্যমন্ত্রী তুলে ধরেছেন। সরকারি চাকরিজীবী, আয়কর দাতা বা নির্দিষ্ট আয়ের বেশি সম্পদ থাকা পরিবারগুলি এই তালিকায় স্থান পাবে না। তবে সমাজের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এবং প্রকৃত যোগ্য নারীরা এই প্রকল্পের আওতায় সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থেই এই ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ সরল রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুব শীঘ্রই বুথ ভিত্তিক বা এলাকা ভিত্তিক ক্যাম্প করে এই ফর্ম বিলি ও জমা নেওয়ার কাজ শুরু হবে। ভুয়ো আবেদন রুখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুরো প্রক্রিয়ার ওপর কড়া নজরদারি চালানো হবে বলেও নবান্ন সূত্রে খবর।

