হট টপিক
মাটি খুঁড়তেই কুবেরের ধন! বাদুড়িয়ায় তৃণমূল নেতার পাটক্ষেত থেকে বস্তা বস্তা টাকা উদ্ধার
প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া পুরসভার ধৃত চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের পাট চাষের জমি থেকে উদ্ধার হলো বস্তা বস্তা নগদ টাকা। বুধবার ধৃত নেতাকে সঙ্গে নিয়ে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ তাঁর একটি পাটক্ষেতে তল্লাশি অভিযান চালায়। সেখানে মাটির তলা থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে দুর্নীতির অভিযোগে একটি গোপন ডেরা থেকে বাদুড়িয়ার পুরপ্রধান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানতে পারে, টাকা লুকানোর জন্য তিনি অভিনব পন্থা বেছে নিয়েছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার তাঁরই একটি পাটক্ষেতে মাটি খোঁড়া শুরু হতেই চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারীদের। মাটির গভীর থেকে একের পর এক বের হতে থাকে টাকা ঠাসা ৫টি বড় বস্তা, ড্রাম এবং দামি ট্রলি ব্যাগ। উদ্ধারকারী দলের পুলিশ কর্মীদের পিঠে করে সেই বিপুল টাকার বস্তা থানায় নিয়ে যেতে দেখা যায়। টাকা গণনার জন্য ইতিমধ্যেই ব্যাংকের কর্মী ও নোট গোনার মেশিন আনা হয়েছে।
এই ঘটনার সূত্রপাত গত ২৪ মে রাতে। স্থানীয় বাসিন্দারা লক্ষ্য করেন, দীপঙ্করের অফিস ও তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে ভ্যানে করে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণের ত্রিপল পাচার করা হচ্ছে। গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়ে চেয়ারম্যান পালিয়ে গেলেও পুলিশ তদন্তে নেমে তাঁর পরিচালিত একটি পরিত্যক্ত কম্পিউটার সেন্টার থেকে ৮০ লক্ষ টাকা নগদ এবং প্রায় ৪ হাজার সরকারি ত্রিপল উদ্ধার করে। এরপরই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে পেশ করে ৬ দিন নিজেদের হেফাজতে নেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়া এবং এলাকায় বিভিন্ন বেআইনি নির্মাণ থেকে কোটি কোটি টাকা কাটমানি বা তোলা আদায় করতেন এই পুরপ্রধান। সেই দুর্নীতির টাকাই তিনি পাটক্ষেতে পুঁতে রেখেছিলেন।
পাটক্ষেত থেকে এই বিপুল পরিমাণ "গুপ্তধন" উদ্ধারের খবর ছড়াতেই বাদুড়িয়া জুড়ে আমজনতার মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিজেপির দাবি, গরিব মানুষের টাকা ও ত্রাণের সামগ্রী লুট করে নেতারা মাটির নিচে টাকার পাহাড় বানাচ্ছেন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি যে দলেরই হোক না কেন, আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

