বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

এই গ্রামের বাসিন্দাদের পেশা সং সাজা

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬
এই গ্রামের বাসিন্দাদের পেশা সং সাজা
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি: এই গ্রামের বাসিন্দাদের পেশা সং সাজা। বহুরুপী গ্রাম বীরভূমের বিষয়পুর। রাজা উজির থেকে দেবতা সবই সাজেন তাঁরা। সকাল হলেই বেরিয়ে পড়েন বিনোদন দিতে।
বহু বছর আগে গুজরাটের একদল শিকারী নিজেদের ঠিকানা খুঁজতে নানা প্রান্ত ঘুরে বীরভূমের এই অঞ্চলে আসেন, তখন এ জায়গা ছিল ঘন জঙ্গলে ভরা। সেখানেই বসতি গড়েন তাঁরা। সময়ের সঙ্গে জঙ্গল গেছে হারিয়ে, গ্রাম বসতি হয়েছে। শিকারীরা তাঁদের আদি পেশা ছেড়ে বহুরূপীর পেশাকেই জীবিকার মাধ্যম করে নিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের উপাধি থেকে গেছে ব্যাধ। 
এখন বিষয়পুরে ৫০ টির মতন পরিবার এই পেশায় যুক্ত।
সবই প্রায় কুঁড়ে ঘর, একটা ঘর রঙের আলপনা দিয়ে সাজানো। সেটা সাজঘর। সকলের সাজঘর।

উৎসবের সময় বুঝে সেই রূপ ধারণ করলে রোজগার কিঞ্চিৎ বেশি হয় বলেই জানাচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের দৈনিক গড় আয় ২০০ টাকা। এ বাজারে এই রোজগারে জীবনধারণ করা প্রায় অসম্ভব। তবু তাঁরা অন্য পেশায় যেতে নারাজ। ভিক্ষাবৃত্তি তো নৈব নৈব চ।

এক প্রবীণ বহুরূপী বললেন, শহরের পাড়ায় গিয়ে বাচ্চাদের হুল্লোড়ের মাঝে পড়ে হইচই করতে করতেই এক একটা দিন চলে যায়, তাদের বাড়ি থেকে পাঁচ দশ টাকা দিল হয়ত, কেউবা কপালে হাত ঠেকিয়েই বিদায় করে দিল। তাই বলে মন খারাপ করে বসে থাকলে চলে না। পরদিন ফের বেরোতে হয়। আমাদের ব্যাধের রক্ত, ছুটে বাঁচি আমরা।
যাঁরা  বয়সের ভারে কাজ করতে পারেন না তাঁদের সমস্যা দুর্বিসহ। সরকারী বার্ধক্য ভাতা মিললে হাতে চাঁদ পান তাঁরা। এই পেশা থেকে সম্পন্ন হতে পেরেছেন তেমন মানুষরা সংখ্যায় অতি কম। তাঁরা কেউই প্রায় পুরনো পেশায় নেই, তেমন কেউ কেউ গ্রামও ছেড়েছেন। তবে সব বদলালেও নিজেদের ব্যাধ উপাধি তাঁরাও বদলাননি।

রাত ৮ টার পরে সবাই ঘরে ফেরেন। কেউ গিয়েছিলেন আসানসোলে, কেউ রামপুরহাটে, কেউ সিউড়ি বাজারে তো কেউ বোলপুর শহরে। পোষাক বদলে পুকুরের জলে মুখের রঙ ধুয়ে উনুনে আগুন জ্বলে, শুরু হয় সারা দিনের গল্প।