হট টপিক
বইয়ের দোকান না অস্ত্রের কারখানা, হতবাক পুলিশ
প্রকাশিত: ২ জুন, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা: দিনের বেলায় তিনি আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই দোকানে বসে হরেক রকমের বই বিক্রি করতেন। শান্ত স্বভাবের সেই বই বিক্রেতাকে এলাকার সকলেই একজন ভদ্র ব্যবসায়ী হিসেবেই চিনতেন। কিন্তু রাত নামলেই বদলে যেত সেই দোকানের চেনা ছবিটা। বইয়ের দোকানের শাটার বন্ধ হতেই ভেতরে শুরু হতো অন্য খেলা। বইয়ের আড়ালে সেখানে রমরমিয়ে চলত বেআইনি মারণাস্ত্র তৈরির কাজ। কর্নাটকের বেলগাভি এলাকায় বই বিক্রির আড়ালে এমন এক ভয়ংকর বেআইনি অস্ত্র কারখানার হদিস পেয়ে তাজ্জব বনে গিয়েছেন খোদ তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় বিশ্বনাথ দেশাই নামে ওই মূল অভিযুক্ত বই বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে কর্নাটক পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বেলগাভি এলাকায় একটি চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ঘটে। সেই খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করতে গিয়েই তদন্তকারীরা জানতে পারেন, অপরাধে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি স্থানীয় কোনো এক চক্রের কাছ থেকে কেনা হয়েছিল। সেই সুত্র ধরেই পুলিশ বেআইনি অস্ত্রের একটি বড়সড় চক্রের সন্ধান পায়। ধৃতদের জেরা করতে করতেই উঠে আসে বিশ্বনাথ দেশাইয়ের নাম। এরপরই ছক কষে বিশ্বনাথের বইয়ের দোকানে অতর্কিতে হানা দেয় পুলিশ বাহিনী।
দোকানের ভেতর তল্লাশি চালাতেই চোখ কপালে ওঠে পুলিশ কর্মীদের। থরে থরে সাজানো বইয়ের র্যাকের আড়ালে লুকিয়ে রাখা ছিল দেশি পিস্তল, কার্তুজ এবং অস্ত্র তৈরির প্রচুর কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি। পুলিশ জানতে পেরেছে, বিশ্বনাথ দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত চাতুর্যের সাথে এই দ্বৈত জীবন চালাচ্ছিলেন। যাতে কারোর মনে কোনো সন্দেহ না জাগে, তাই দিনের বেলা বই বিক্রির চেনা চকের আড়ালেই তিনি অস্ত্রের কারবার ফেঁদে বসেছিলেন। রাত বাড়লেই দোকানের ভেতরের গোপন চেম্বারে চলত লোহা কাটা, নল তৈরি ও পিস্তল জোড়া দেওয়ার কাজ।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, এই বিশ্বনাথ শুধু অস্ত্র তৈরিই করতেন না, বরং আন্তঃরাজ্য অস্ত্র পাচার চক্রের সাথেও তাঁর সরাসরি যোগাযোগ ছিল। কর্ণাটকের পাশাপাশি প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতেও তাঁর তৈরি অস্ত্র চড়া দামে পাচার করা হতো। এই চক্রের সাথে আর কারা যুক্ত রয়েছে এবং ইতিমধ্যে কত অস্ত্র বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে, তা জানতে বিশ্বনাথকে হেফাজতে নিয়ে জেরা শুরু করেছে বেলগাভি পুলিশ। শান্ত এলাকায় এমন অস্ত্র কারখানার হদিস মেলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

