উচ্ছেদ আতঙ্কে কলেজস্ট্রিট, বিক্ষোভে বামেরা
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কলেজস্ট্রিট বইপাড়া জুড়ে এখন শুধুই উচ্ছেদের আতঙ্ক। সম্প্রতি বঙ্কিম চ্যাটার্জি স্ট্রিট এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ফুটপাতের বইবিক্রেতাদের কাছে এক চরম বার্তা এসেছে। জানা গিয়েছে, কলকাতা পুরসভার নাম করে কয়েকজন ব্যক্তি এসে দোকানদারদের সাফ জানিয়ে গিয়েছেন যে ফুটপাত খালি করে দিতে হবে। বহু বছরের পুরনো এই বইয়ের দোকানগুলি সরিয়ে দেওয়ার মৌখিক নির্দেশ আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে ছোট ব্যবসায়ী এবং হকারদের মধ্যে। আচমকা এই উচ্ছেদ আতঙ্কের জেরে রুটিরুজি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন শতাধিক বইবিক্রেতা।
এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং ফুটপাতের বইবিক্রেতাদের পাশে দাঁড়াতে এবার পথে নামল বামেরা। উচ্ছেদের আতঙ্ক সৃষ্টি করার বিরুদ্ধে আজ কলেজ স্ট্রিট কফি হাউজের সামনে একটি গণ জমায়েত ও বিক্ষোভ সভার ডাক দিয়েছিল সিপিআই(এম) জোড়াসাঁকো ১ এরিয়া কমিটি। এই সভায় বাম কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি পাড়ার সাধারণ মানুষ এবং আতঙ্কিত বইবিক্রেতারাও শামিল হন। সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী, সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য দেবাঞ্জন দে কলকাতা জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য সংগ্রাম চ্যাটার্জি, সিপিআই(এম) নেতা কলতান দাশগুপ্ত। আন্দোলনকারীদের দাবি, কোনো রকম আগাম নোটিশ বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে এভাবে গরিব ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা চলবে না। পুরসভার নাম ভাঙিয়ে কারা এই ভয় দেখাচ্ছে, তা অবিলম্বে তদন্ত করে দেখার দাবিও উঠেছে।
বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাম নেতারা বলেন, কলেজস্ট্রিটের ফুটপাতের বইয়ের দোকানগুলি শুধু মাত্র ব্যবসা নয়, এটি কলকাতার সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। দূরদূরান্ত থেকে ছাত্রছাত্রী এবং বইপ্রেমীরা এখানে আসেন। এই দোকানগুলির ওপর নির্ভর করে বহু পরিবারের পেট চলে। প্রশাসন যদি জোর করে এই হকারদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা করে, তবে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে দেবাঞ্জন দে প্রশ্ন তোলেন, "কমিশনার কিছু জানেন না,কর্পোরেশনের কাছে কোনও খবর নেই সেক্ষেত্রে এই কাজগুলো করছে কারা? বিষয়টা এমন নয় তো যে কিছু জানি না, কিছু করিনি এমনটা করতে করতে সত্যিই একদিন আচমকা বুলডোজার এসে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে চলে যাবে সমস্তকিছু ঠিক যেমনটা রাতের অন্ধকারে রেলস্টেশনগুলোতে ঘটেছিল?"
এই গণ জমায়েতকে কেন্দ্র করে আজ কফি হাউজের সামনে বেশ কিছুক্ষণ উত্তেজনা তৈরি হয়। বই বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই লড়াই চলবে বলে বাম নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছে।

