অর্থপাচার মামলায় ইডির বড়সড় তল্লাশি অভিযান
নিজস্ব প্রতিনিধি: বেআইনি অর্থপাচার এবং আর্থিক জালিয়াতির মামলায় ফের বড়সড় পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কুখ্যাত অপরাধী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু, কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং ব্যবসায়ী জয় এস. কামদারের বিরুদ্ধে চলা মানি লন্ডারিং মামলার তদন্তে বুধবার রাজ্যজুড়ে জোরদার অভিযান চালালেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। কলকাতা এবং মুর্শিদাবাদের মোট ১৩টি নির্দিষ্ট ঠিকানায় একযোগে এই ম্যারাথন তল্লাশি চালানো হয়েছে। তল্লাশি অভিযানে বহু নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনা পাপ্পু এবং প্রাক্তন পুলিশ কর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ভুয়ো রিয়েল এস্টেট কারবার, সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি এবং বেআইনিভাবে জমি দখলের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সেই অবৈধ কালোধন কোথায় কীভাবে পাচার করা হয়েছে, তা জানতেই এই জোরালো তল্লাশি। কলকাতার বালিগঞ্জ, কসবা, আনন্দপুর, আলিপুরের মতো অভিজাত এলাকার পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের কান্দিতে প্রাক্তন ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের পৈতৃক ও বিলাসবহুল সম্পত্তিতেও হানা দেন ইডি আধিকারিকরা।
এই তল্লাশিতে প্রাক্তন ডিসিপির আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বাড়িগুলিকেও নজরে রাখা হয়েছিল। তল্লাশি চালিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা নগদ এবং বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ভারত ও দুবাইয়ের মতো আন্তর্জাতিক স্তরে বিপুল সম্পত্তি কেনাবেচা ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও আপত্তিজনক নথি উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বেশ কিছু ডিজিটাল ডিভাইস ও মোবাইল ফোন।
ইতিমধ্যেই এই মানি লন্ডারিং মামলার মূল অভিযুক্ত শান্তনু সিনহা বিশ্বাস, সোনা পাপ্পু এবং জয় এস. কামদারকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। এই প্রভাবশালী চক্রটি পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের জমি হাতিয়ে বিপুল টাকার লেনদেন করত বলে প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। দুবাইয়ে এই দুর্নীতির টাকা পাচার বা হাওয়ালা যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই উদ্ধার হওয়া নথিপত্রগুলো বিস্তারিত পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই অভিযানের পর আগামী দিনে এই চক্রের সাথে যুক্ত আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও ওয়াকিবহাল মহল।

