বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

অফসাইড বুঝতে নতুন প্রযুক্তি আনছে ফিফা

প্রকাশিত: ৪ জুন, ২০২৬
অফসাইড বুঝতে নতুন প্রযুক্তি আনছে ফিফা
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ফুটবল খেলায় অফসাইড নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। একটা সময় ছিল যখন অফসাইডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মাঠের রেফারিদের সম্পূর্ণভাবে লাইন্সম্যান বা সহকারী রেফারিদের ওপর নির্ভর করতে হতো। এরপর প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ফুটবলে আসে ‘ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি’ বা ভিএআর (VAR) ব্যবস্থা। এই প্রযুক্তির কারণে মাঠের রেফারি ও লাইন্সম্যানদের ভুলের সংখ্যা অনেক কমেছে। তবে এবার সেই ব্যবস্থাকে আরও উন্নত, নিখুঁত ও দ্রুত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা (FIFA)। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ থেকেই এই নতুন ও আধুনিক অফসাইড প্রযুক্তি পুরোপুরি চালু হতে চলেছে।

ফিফার এই নতুন উদ্যোগের নাম উন্নত ‘সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি’ বা আধা-স্বয়ংক্রিয় অফসাইড ব্যবস্থা। এই প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর সাহায্য নেওয়া হয়েছে। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, অফসাইড পরীক্ষার জন্য ম্যাচ চলাকালীন দর্শকদের আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। আগে কোনো খেলোয়াড় সামান্য অফসাইডে থাকলে তা খালি চোখে ধরা কঠিন হতো এবং ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্যে তা মেলাতে অনেক সময় নষ্ট হতো। নতুন এই উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো ফুটবলার মাত্র ১০ সেন্টিমিটারের বেশি অফসাইড পজিশনে থাকলেই সঙ্গে সঙ্গে মাঠের রেফারিদের ইয়ারপিসে একটি অডিও সতর্কবার্তা চলে যাবে। 
এই আধুনিক ব্যবস্থার কাজ পরিচালনার জন্য স্টেডিয়ামগুলোতে বিশেষ ট্র্যাকিং ক্যামেরা বসানো থাকবে, যা খেলোয়াড়দের প্রতি মুহূর্তের নড়াচড়া নিখুঁতভাবে রেকর্ড করবে। পাশাপাশি ম্যাচের প্রতিটি ফুটবলারের একটি করে থ্রি-ডি (3D) অবয়ব বা ডিজিটাল স্ক্যান তৈরি করা হবে। বল পাস করার সঙ্গে সঙ্গে কোনো খেলোয়াড় অফসাইড লাইনের সামনে আছেন কি না, তা মুহূর্তের মধ্যে এআই গণনা করে রেফারিদের জানিয়ে দেবে। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় এবং টেলিভিশনের সম্প্রচারে থ্রি-ডি অ্যানিমেশনের মাধ্যমে দর্শকদেরও তা পরিষ্কারভাবে দেখানো হবে। এর ফলে মাঠের বিতর্ক ও বিভ্রান্তি অনেকটাই কমে যাবে।
এর আগে সহকারী রেফারিরা নিশ্চিত না হতে পারলে অফসাইডের পতাকা তুলতে দেরি করতেন, যার ফলে অনেক সময় খেলা অপ্রয়োজনে চলত এবং খেলোয়াড়দের চোট পাওয়ার ঝুঁকি বাড়ত। নতুন প্রযুক্তির তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা এই বিলম্বের সমস্যা মেটাবে। তবে মনে রাখা দরকার, প্রযুক্তি সংকেত দিলেও অফসাইড দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও ক্ষমতা আগের মতোই মাঠের প্রধান রেফারি এবং সহকারী রেফারিদের হাতেই থাকবে। ফিফার এই যুগান্তকারী আধুনিকীকরণের ফলে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ যে আরও গতিশীল এবং বিতর্কহীন হয়ে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য।