হট টপিক
বিশ্বকাপে নতুন নিয়ম মুখ ঢাকলেই লাল কার্ড
প্রকাশিত: ৪ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে বাকি আর মাত্র ১০ দিন। আগামী ১১ জুন ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ১২টায় মেগা ইভেন্টের পর্দা উঠবে। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হতে চলেছে মেক্সিকো এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। ফুটবল দুনিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের এই লড়াইকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে চড়ছে উন্মাদনার পারদ। তবে এবারের বিশ্বকাপে শুধু মাঠের লড়াই নয়, দর্শকদের নজর থাকবে নতুন কিছু নিয়মের ওপরেও। ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা এবার খেলার মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বেশ কিছু কড়া নিয়ম চালু করছে, যা ফুটবলারদের খেলায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত এবং চমকপ্রদ নিয়ম হলো মুখ ঢেকে কথা বলার ওপর নিষেধাজ্ঞা। ম্যাচের মধ্যে কোনো উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হলে কোনো খেলোয়াড় যদি হাত, বাহু বা জার্সি দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে কথা বলেন, তবে রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে পারবেন। মূলত রেফারি বা প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে মাঠের ভেতরে যাতে কোনো বর্ণবিদ্বেষী, অপমানজনক বা স্লেজিংয়ের মতো আপত্তিকর মন্তব্য করা না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মুখ ঢেকে কথা বললে লিপ-রিডিং বা ঠোঁট নাড়া দেখে ফুটবলারের অপরাধ ধরা কঠিন হয়ে পড়ে, তাই এই কড়া সিদ্ধান্ত।
তবে ফিফার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে সব ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। ম্যাচ চলাকালীন সতীর্থদের সঙ্গে কোনো কৌশলগত আলোচনা বা প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ কথাবার্তার সময় মুখ ঢাকলে কোনো শাস্তি দেওয়া হবে না। শুধুমাত্র সংঘাতপূর্ণ বা ঝামেলার পরিস্থিতিতে কেউ মুখ লুকিয়ে কোনো মন্তব্য করলে তবেই রেফারি লাল কার্ডের মতো কঠিন শাস্তি প্রয়োগ করবেন। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাঠের ভেতরের স্লেজিং রুখতে এবং খেলাকে আরও স্বচ্ছ করতে এই নিয়ম অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা নেবে। তাছাড়া খেলার গতি বাড়াতে রেফারি প্রতিটি থ্রো-ইন ও গোল কিকের আগে ৫ সেকেন্ড কাউন্টডাউন শুরু করবেন। এই সময়ের মধ্যে বল ইন-প্লে না হলে প্রতিপক্ষ দলকে থ্রো-ইন বা কর্নার কিক দেওয়া হবে। খেলোয়াড় চোট পেয়ে মাঠে চিকিৎসা নিলে খেলা পুনরায় শুরু হলে তাঁকে এক মিনিটের জন্য মাঠ ছাড়তে হবে। তবে গোলকিপারের চোট, মাথায় আঘাত (কনকাশন) কিংবা সংঘর্ষের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। নতুন নিয়মে বলা হচ্ছে, ভুলভাবে লাল বা হলুদ কার্ড দেখানো হলে, কর্নার কিকের সিদ্ধান্তে ভুল থাকলে এবং সেট-পিস শুরুর আগে ফাউল উপেক্ষিত হলে ভিএআর রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউয়ের পরামর্শ দেবে এবং প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত সংশোধন করা হবে। ম্যাচের প্রতি অর্ধে একটি করে ৩ মিনিটের হাইড্রেশন বিরতি রাখা হবে। তবে চোট বা ম্যাচ পরিস্থিতিতে রেফারি সময় পরিবর্তন করতে পারবেন।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এই নতুন নিয়মগুলি নিয়ে ফুটবল মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এতে খেলার গতি ও মান দুটিই বাড়বে বলে মনে করছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

