৫ বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুন
নিজস্ব প্রতিনিধি: মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে এক ৫ বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধ ঢাকতে অভিযুক্তরা নির্যাতিতার দেহ পেট্রল দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করে। পুলিশ গোয়ালিয়রের গুপ্তেশ্বর পাহাড় এলাকা থেকে ওই শিশুটির ঝলসানো মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। এই ভয়ঙ্কর ঘটনাটি প্রকাশ্য আসতেই দোষীদের ফাঁসির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় মানুষ ও নিহতের পরিবার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নাবালিকা আসলে ভিন্দ জেলার বাসিন্দা ছিল। সে গত ২৮ মে থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনও সন্ধান পাচ্ছিলেন না। খোঁজখবর নেওয়ার সময় তাঁরা 'রামু গুরজর' নামে এক যুবকের ফোন নম্বর পান। দীর্ঘ সময় কেটে যাওয়ার পরও নাবালিকার কোনও হদিস না মেলায়, পরিবারের লোকজন শেষ পর্যন্ত মাউ (Mau) থানায় একটি অপহরণের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়েই ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ।
তদন্ত চলাকালীন গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ গোয়ালিয়রের গুপ্তেশ্বর পাহাড় এলাকায় তল্লাশি চালায়। সেখান থেকেই নাবালিকার আধপোড়া ও ক্ষতবিক্ষত দেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ৫ বছরের শিশুটিকে প্রথমে গণধর্ষণ করা হয়েছে। তারপর অত্যন্ত নির্মমভাবে তাকে খুন করা হয়। নিজেদের এই চরম অপরাধের প্রমাণ পুরোপুরি মুছে ফেলতে এবং পুলিশের চোখ এড়াতে অভিযুক্তরা শিশুটির মৃতদেহে পেট্রল ঢেলে তা পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
এই নৃশংস ও পাশবিক ঘটনার খবর জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষোভে ফেটে পড়েন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তাঁরা রাস্তা অবরোধ করে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। উত্তেজিত জনতার দাবি, এই জঘন্য অপরাধের সাথে যুক্ত সমস্ত দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে ফাঁসি দিতে হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে বড় পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং খুব দ্রুত তাদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

