বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

মুর্শিদাবাদের হাজারদুয়ারি: বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জীবন্ত দলিল

প্রকাশিত: ২ জুন, ২০২৬
মুর্শিদাবাদের হাজারদুয়ারি: বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জীবন্ত দলিল
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

বিশেষ প্রতিবেদন: ইতিহাস, স্থাপত্য এবং ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার হাজারদুয়ারি প্যালেস। ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক রাজপ্রাসাদটি কেবল মুর্শিদাবাদের নয়, বরং সমগ্র ভারতের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলার নবাবী আমলের জাঁকজমক এবং ব্রিটিশ স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই বিশাল প্রাসাদ।
হাজারদুয়ারি প্যালেস বা হাজারদুয়ারি প্রাসাদ নির্মাণের ইতিহাস অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ১৮২৯ সালে বাংলার নবাব নাজিম হুমায়ুন ঝার রাজত্বকালে এই প্রাসাদের নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ১৮৩৭ সালে তা শেষ হয়। ইতালীয় ও গ্রীক (ডোরিক) স্থাপত্যশৈলীর অনুকরণে এই প্রাসাদের নকশা তৈরি করেছিলেন ব্রিটিশ স্থপতি ডানকান ম্যাকলিওড। প্রাসাদটির নামকরণ করা হয়েছে এর দরজার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে। এই বিশাল প্রাসাদে মোট ১০০০টি দরজা রয়েছে, যার মধ্যে ৯০০টি আসল এবং বাকি ১০০টি নকল দরজা। শত্রুদের বিভ্রান্ত করতে এবং প্রাসাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই তৎকালীন সময়ে এই অভিনব কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল। 
বর্তমানে হাজারদুয়ারি প্যালেসটিকে একটি রাষ্ট্রীয় সংগ্রহশালা বা মিউজিয়ামে রূপান্তরিত করা হয়েছে, যা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI) দ্বারা সংরক্ষিত। এই মিউজিয়ামে পা রাখলেই দর্শকরা নিমেষের মধ্যে নবাবী আমলে ফিরে যান। এখানে রয়েছে ওলন্দাজ, ফরাসি এবং ইতালীয় ঘরানার বহু মূল্যবান তৈলচিত্র। এছাড়াও রয়েছে নবাবদের ব্যবহৃত নানা রাজকীয় আসবাবপত্র, স্ফটিকের তৈরি বিশাল ঝাড়বাতি এবং মহার্ঘ সব রাজপোশাক।
হাজারদুয়ারির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর অস্ত্রাগার। এখানে নবাব আলিবর্দী খাঁ, সিরাজ-উদ-দৌলা এবং মীর জাফরের ব্যবহৃত তলোয়ার, ঢাল, তির-ধনুক, বন্দুক এবং ভারী কামান সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়াও মিউজিয়ামের লাইব্রেরিতে রয়েছে হাতে লেখা পবিত্র কোরআন শরীফসহ কয়েক হাজার বিরল বই ও পাণ্ডুলিপি। হাজারদুয়ারি চত্বরেই রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ইমামবাড়া এবং বিখ্যাত 'বাচ্চাওয়ালি তোপ'।
মুর্শিদাবাদের এই হাজারদুয়ারি কেবল একটি দর্শনীয় স্থান নয়, এটি পলাশীর যুদ্ধ এবং বাংলার স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী। বছরের যেকোনো সময়েই এখানে ইতিহাসপ্রেমী মানুষের ঢল নামে। কলকাতা থেকে ট্রেনে বা সড়কপথে খুব সহজেই বহরমপুর বা মুর্শিদাবাদ স্টেশনে পৌঁছে এই ঐতিহাসিক প্রাসাদের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। অতীতকে জানার এবং বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্যকে ছুঁয়ে দেখার জন্য হাজারদুয়ারি ভ্রমণের কোনো বিকল্প নেই।

কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদ যাওয়ার সেরা উপায়
•    ট্রেন রুট: কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশন থেকে প্রতিদিন সকালে হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেস এবং ভাগীরথী এক্সপ্রেস ছাড়ে। এই ট্রেনগুলিতে মাত্র ৪ থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে সরাসরি মুর্শিদাবাদ স্টেশনে পৌঁছানো যায়। এ ছাড়া হাওড়া থেকেও বেশ কিছু লোকাল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বহরমপুর বা মুর্শিদাবাদ যায়।
•    সড়কপথ: কলকাতা থেকে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক (NH-34) ধরে গাড়ি বা সরকারি-বেসরকারি বাসে করে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ৫-৬ ঘণ্টায় মুর্শিদাবাদ পৌঁছানো সম্ভব।