হট টপিক
কুয়েত বিমানবন্দরে ইরানের হামলা: মৃত ভারতীয়
প্রকাশিত: ৪ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের আকস্মিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ভারতীয় নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ভয়াবহ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৬৮ জন, যাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার তীব্র সংঘাতের জেরে ঘটে যাওয়া এই হামলার কড়া নিন্দা করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্বমঞ্চে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছে।
কুয়েতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস বুধবার এক্স হ্যান্ডেলে এই দুঃখজনক খবরটি নিশ্চিত করেছে। দূতাবাস জানিয়েছে, হামলায় নিহত ওই ভারতীয় প্রবাসীর পরিবারের প্রতি তারা গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে কুয়েত সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে আহত ভারতীয়দের দ্রুত চিকিৎসা এবং মৃত ব্যক্তির দেহাবশেষ দেশে ফেরানোর সমস্ত প্রক্রিয়া মসৃণভাবে সম্পন্ন করা যায়।
এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেছে যে, কোনো অবস্থাতেই সাধারণ বেসামরিক মানুষ এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর এমন হিংসাত্মক হামলা মেনে নেওয়া যায় না। যুদ্ধ বা সামরিক সংঘাতের জেরে নিরীহ সাধারণ নাগরিকদের জীবন বিপন্ন হওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষকে অবিলম্বে এই ধরণের ধ্বংসাত্মক হিংসা থেকে বিরত থাকার কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে এবং শান্তি আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কুয়েতের স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (IRGC) ছোঁড়া ড্রোন ও মিসাইল বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনালে আঘাত হানলে এই বিপর্যয় ঘটে। হামলার জেরে বিমানবন্দরের ভবন ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কিছু সময়ের জন্য উড়োজাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ স্থগিত রাখতে হয়েছিল। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে চিকিৎসকেরা তাঁদের জরুরি পরিষেবা দিচ্ছেন। এই ঘটনার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে থাকা ভারতীয় মিশন ও দূতাবাসগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি, যাতে যেকোনো দরকারে সেখানে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়কে দ্রুত প্রশাসনিক সাহায্য দেওয়া যায়। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পারস্য সাগর, হরমুজ প্রণালী ও কেশন দ্বীপে মার্কিন হানার ‘বদলা’ নিতেই তারা কুয়েতে হামলা চালিয়েছে। সেই সঙ্গে মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংসের দাবিও করেছে তারা।

