বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

জসীমুদ্দিন মোল্লার কবিতা “ভালোবাসার মানে”, “আধমরা বিবেক” এবং “ধর্মঘট”

প্রকাশিত: ৩ জুন, ২০২৬
জসীমুদ্দিন মোল্লার কবিতা “ভালোবাসার মানে”, “আধমরা বিবেক” এবং “ধর্মঘট”
জসীমুদ্দিন মোল্লাজসীমুদ্দিন মোল্লা
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon
ভালোবাসার মানে
 
জসীমুদ্দিন মোল্লা

মান-সম্মান খুইয়ে এই অবেলায় আবার লিখতে বসেছি;
নির্লজ্জের মতো।
এতকাল কবিতা লিখে,গল্প বলে বুঝি বোঝানো যায়নি, -'ভালোবাসি'
সৃষ্টির আদ্যিকাল থেকে এত কবিতা,চলচিত্র,ছবিতেও বুঝি
বোঝানো গেলনা 'ভালোবাসার মানে'।
তবু,আজকের এই কবিতা লেখায় তুমি বুঝে নিও
এত হীনতার পরেও কেন তোমার জন্য কবিতা লিখি।
 
 
 
 
আধমরা বিবেক
 
জসীমুদ্দিন মোল্লা
 
এখন নিকষকালো রাতের আঁধারে মৃতের সংখ্যা গুনি।
ঘর ভাঙছে,গাছ মরছে,মানুষ মরছে, 
চারিদিকে শুধু মরার শব্দ।
মৃতদেহের পচাগলা গন্ধ আর আমাদের বিরক্ত করেনা।
আমরা নিশ্চিন্তে ঘুমাই, ফোন দেখি, আবার ঘুমাই।
অনেকদিন হল মরার খবর শুনতে শুনতে আজ একটা নতুন খবর শুনলাম,
'মাঝবয়সী এক তরুণীকে আধমরা ফেলে গেছে ক'জন লম্পট।'
আঁতকে উঠলাম।
'আধমরা!'
এর চেয়ে বুঝি পুরো মরা-ই  ভালো।
 
 
 
ধর্মঘট
 
জসীমুদ্দিন মোল্লা
 
ধর্মঘটে জ্বলছে দোকান,জ্বলছে ঘর ও বাড়ি
জ্বলছেনা চুলোর আগুন,জ্বলছে পেটের নাড়ি।
সপ্তাহান্তে চাল ছিলনা,নুন ছিলনা ঘরে,
বছর আশির বৃদ্ধা মা-টা পুড়ছিল আজ জ্বরে।
পথ্য-বিনে জলপট্টি,ক্ষুধায় কাঁদে ছেলে,
অবরোধের বান ডেকেছে পথে-ঘাটে,রেলে।
মুসলিম ঘরের ছেলে আমি হিন্দুপাড়ায় বাস,
একইসাথে উঠি-বসি, হয়নি জীবন-নাশ।
 
পতাকাধারী ক'জন এসে হুড়কো তুলে গেল,
-“বন্ধে দোকান খুললে পরাণ ফল হবেনা ভালো।”
হুমকি তাদের শুনতে পেলুম জানলার এপার থেকে,
ফিসফিসিয়ে পরাণদাকে বললুম আমি ডেকে।
“খুলো না আজ দোকানখানি,বুঝলে পরাণভাই।”
ছেলের কান্না,মায়ের প্রলাপ: আমার শোনে নাই।
 
 
জ্বলছে দোকান,পুড়ছে বাড়ি,ছড়িয়ে আছে নুন,
সেই নুনেতে রক্ত মাখা,উঠছে জ্বলে আগুন।
নুন-ডাল সব রইল পড়ে মাঝে পরাণদা,
জানতো না সে পরাণপাখি ধর্মজালে বাঁধা।
ঘটের আগুন নিভে গিয়ে ধর্মের হল জয়,
পুড়লো দোকান খান আশি,মানুষ গোটা নয়।
নুন আনতে পান্তা ফুরোয় এই আমাদের হাল,
বন্ধ ডেকে,খন্দ কেটে বিছাও ধর্মজাল!