হট টপিক
অবৈধ বালিঘাট রুখতে কাঁকসায় অভিযান
প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতাঃ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে অবৈধ বালিঘাট নিয়ে সরব হয়েছিলেন। শুক্রবার সকাল থেকেই কাঁকসার নয়া কাঞ্চনপুর, শ্রীরামপুর, বসুধা সহ একাধিক ঘাট এলাকায় অবৈধ বালি পাচার রুখতে অভিযানে নামল প্রশাসন। এদিন কাঁকসার ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিক মঞ্জু কাঞ্জিলাল সহ দপ্তরের আধিকারিকরা ও কাঁকসা থানার পুলিশ উপস্থিত ছিল। মঞ্জুদেবী বলেন, নিয়মিত অভিযান চলবে।
কাঁকসার পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে অজয় নদ। অভিযোগ, এই নদকে কেন্দ্র করে বালির অবৈধ কারবার চলে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, বালিতে তো ভয়ঙ্কর। আমরা এটাই বলে দিয়েছি প্রয়োজন হলে বালির দাম বেঁধে দিন। এই অবৈধ ঘাট বন্ধের সুযোগ নিয়ে সোনামুখীতে ৮ হাজারের বালি ১৬ হাজার বলছে। যাতে সাধারণ গরীব মানুষের কাছে বিজেপি সরকারের ভাবমূর্তি খারাপ হয় সেই চক্র কাজ করছে। এই কথার পরেই এদিন অভিযানে নামতে দেখা যায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে। এদিন সকাল ৮টা থেকে একাধিক ঘাটে যান আধিকারিকরা। কথা বলেন এলাকার মানুষের সঙ্গে। আধিকারিকদের দাবি, অবৈধ কারবার এখন বন্ধ। গাড়ির চাকার দাগ থাকলেও তা দীর্ঘদিনের পুরনো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে অজয় নদের একাধিক জায়গায় অবৈধ বালিঘাট গজিয়ে উঠেছিল। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দিনের পর দিন বালি পাচার হয়েছে। ডাম্পার বা লরি করে শুধু নয় বিভিন্ন জায়গায় বালি মজুদ করে রেখে ট্রাক্টারে করেও পাচার হতো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাঁকসার এক বাসিন্দা বলেন, অজয় থেকে বালি তুলে বনকাটি, অযোধ্যা, এগারো মাইল হয়ে বালি পাচার হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হত ট্রাক্টরে করে বালি পাচার। তাতে গ্রামীন পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আসলে তৎকালীন শাসক দলের ‘দাদা’দের হাত ছিল বালি কারবারিদের মাথায়। তাই এই কারবারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। প্রশাসনের বিধি নিষেধকে তোয়াক্কা না করেই চলেছে কারবার। আসলে সমস্যায় পড়লে ‘দাদা’রা ঠিক ‘ম্যানেজ’ করে দিত। বসুধার এক বাসিন্দা বলেন, বছরের বিভিন্ন তিথিতে অজয়ের ঘাটগুলিতে বহু সাধারণ মানুষ স্নান করতে আসেন। কিন্তু অবৈধ ভাবে বালি তোলায় নদে বালিখাদ তৈরি হয়। জলপূর্ণ নদে সেই গভীরতা ঠাহর করা যায় না। ফলে প্রতি বছর প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এবার নিশ্চয় সেই ধারা পাল্টাবে। বিষয়টি নিয়ে বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন, কাঁকসা এলাকায় দিনে দুপুরে বালি পাচার হয়েছে। আমরা একাধিকবার অভিযোগ করেছি। কিন্তু স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের রমরমা বন্ধ হয়নি। এবার অবৈধ বালিঘাট বন্ধ হবে।

