হট টপিক
সোলার সাবমার্সিবল থাকলেও কাঁকসায় মেটেনি জলের সমস্যা, কাটমানির তোপ বিজেপির
প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: জলের সমস্যা মেটাতে এলাকায় সোলার সাবমার্সিবল লাগানো হয়েছিল। কিন্তু কাঁকসার বিদবিহার গ্রাম পঞ্চায়েতের শিবপুর আদিবাসীপাড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহুদিন আগে সাবমার্সিবল লাগানো হয়েছিল। কিন্তু আজও বাড়ি বাড়ি পাইপলাইন আসেনি। অথচ ব্যাপক গরমে পানীয় জল নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। প্রশাসনকে বলেও লাভ হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা দূর করতে সোলার সাবমার্সিবল লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বছর দুয়েক আগে তা লাগানোও হয়। অভিযোগ, প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে তা সফল হয়নি। জলের সমস্যা মেটেনি। পানীয় জলের জন্য পাড়ায় হাতেগোনা দুটি টিউবওয়েলের উপর নির্ভর করে থাকতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা লক্ষ্মী হাঁসদা, সুমি টুডুর অভিযোগ, যে সাবমার্সিবল রয়েছে সেখান থেকে আমরা জল পাই না। আমাদের দিকে পাইপও আসেনি। তাই জলও পাইনি। জলকষ্ট কমেনি। স্থানীয়রা জানান, যে দুটি টিউবওয়েলের উপর আমরা নির্ভরশীল তা খারাপ হয়ে গেলে ভোগান্তি বাড়ে। অনেক দূর থেকে জল আনতে হয়। খাওয়া ছাড়াও প্রতিদিনের কাজের জন্য ব্যবহারের জল পেতেও খুব সমস্যা হয়ে যায়। উল্লেখ্য, এই পঞ্চায়েতেরই ফুলঝুড়ি গ্রামে ভোটের আগে উঠে এসেছিল দীর্ঘদিনের পানীয় জলের সমস্যার কথা। নিশ্চিত ভাবেই এই ভোটে গ্রামে অন্যতম ইস্যু ছিল পানীয় জল। তৃণমূলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এই সমস্যা নিয়ে উদাসীন বলেও অভিযোগ উঠেছিল।
এবারেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপান-উতর শুরু হয়েছে। বিদবিহার পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য স্বপন সূত্রধরের দাবি, বহুবার পিএইচই দপ্তরে আবেদন করে ওই প্রকল্প এখানে নিয়ে আসা হয়েছিল। যে ঠিকাদার করেছিলেন তিনি আদিবাসীপাড়ায় মাত্র ১০টি ঘরে কাজ সম্পূর্ণ করে ছেড়ে চলে যান। আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বারবার বলেও সমাধান করতে পারিনি। তিনি জানান, শিবপুর এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। তবে পঞ্চায়েত থেকে টিউবওয়েলগুলিকে ঠিক রাখার চেষ্টা করেছি। কেন ঠিকাদার কাজ সম্পূর্ণ না করেই চলে গেলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন, প্রতি বাড়িতে পানীয় জলের জন্য কেন্দ্র সরকার জল জীবন মিশন প্রকল্প নিয়েছে। কিন্তু সেখান থেকে টাকা নিয়ে তৃণমূল সরকার প্রকল্পের নামে লুট করেছে। প্রকল্পের নাম বদলে তৃণমূল জলস্বপ্ন করেছিল। কিন্তু মানুষ পরিষেবা পায়নি। শিবপুরেও একই সমস্যা। ওই গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ভুগেছে। এবার সমস্যার সমাধান হবে। তবে যারা প্রতারণা করল তারা উপযুক্ত শাস্তি পাবে।

