হট টপিক
কাটোয়া হাসপাতালে তাজ্জব কাণ্ড! প্রসব বেদনা নিয়ে ভর্তি হওয়া বধূ আসলে গর্ভবতীই নন, দাবি চিকিৎসকদের
প্রকাশিত: ৩০ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এক গৃহবধূ। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে পরীক্ষা করতেই চোখ কপালে উঠল সবার। জানা গেল, ওই বধূ আদৌ গর্ভবতী নন! তাঁর গর্ভে কোনও সন্তানই নেই। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে। চিকিৎসকদের মতে, ওই মহিলা ‘সিউডোসাইসিস’ নামে একটি বিরল মানসিক ও শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে কেতুগ্রাম-১ ব্লকের হাট মুরগ্রামের বাসিন্দা ফুলবানু বিবিকে সন্তান প্রসবের জন্য কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরিবারের দাবি, ফুলবানুর তীব্র প্রসব বেদনা (লেবার পেন) উঠেছিল। স্থানীয় আশা কর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পরামর্শ মেনেই তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে ভর্তি করার পরেই নিয়মানুযায়ী তাঁকে লেবার রুমে নিয়ে যান চিকিৎসকেরা।সেখানেই ঘটে মূল বিপত্তি। লেবার রুমে হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায় ফুলবানুকে পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা করার পরেই তিনি অবাক হয়ে যান। চিকিৎসক জানান, ফুলবানু বিবি গর্ভবতীই নন। কিন্তু পরিবারের লোকজন এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা এই কথা মানতে পারছিলেন না। কারণ ফুলবানুর পেট প্রসূতিদের মতোই স্ফীত ছিল এবং তাঁর শরীরে গর্ভধারণের সমস্ত লক্ষণই প্রকাশ পেয়েছিল। চূড়ান্ত বিভ্রান্তি এড়াতে এবং পরিবারের ক্ষোভ শান্ত করতে হাসপাতালের তরফ থেকে পুনরায় ফুলবানুর আলট্রাসোনোগ্রাফি (ইউএসজি) করানো হয়। কিন্তু ইউএসজি রিপোর্টের ফলাফল আসতেই চিকিৎসকের অনুমানই সত্যি প্রমাণিত হয়।
রিপোর্টে দেখা যায়, মহিলার জরায়ু সম্পূর্ণ খালি, সেখানে কোনও ভ্রূণ বা সন্তান নেই। এই অদ্ভুত ঘটনা প্রসঙ্গে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ফুলবানু বিবি আসলে ‘সিউডোসাইসিস’ (Pseudocyesis) বা ‘ছদ্ম গর্ভাবস্থা’ নামক সমস্যায় ভুগছেন। এটি একটি বিরল পরিস্থিতি, যেখানে কোনও নারী গর্ভবতী না হওয়া সত্ত্বেও তাঁর মনে তীব্র বিশ্বাস জন্মায় যে তিনি সন্তানসম্ভবা। শুধু মানসিক স্তরেই নয়, হরমোনের পরিবর্তনের কারণে তাঁর শরীরেও হুবহু গর্ভবতী মহিলাদের মতো লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন— ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া, পেট ফুলে যাওয়া এবং প্রসব বেদনার মতো তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করা। সাধারণত সন্তান পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা গভীর মানসিক অবসাদ থেকে এই ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। এই ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। চিকিৎসকেরা ফুলবানুর পরিবারকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পর তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।

