মানুষ চেনার উপায় কী?
সংকলক : সন্দীপ সিনহা
মহারাজ যুধিষ্ঠির পিতামহ ভীষ্মের কাছে জানতে চাইলেন মানুষ কীভাবে চেনা যায়। কারণ বাইরে থেকে অনেক প্রিয়দর্শন মানুষ আছে যাদের অন্তর ঈর্ষা- বিদ্বেষে ভরা। পিতামহ বাঘ- শৃগালের একটি গল্পের মধ্য দিয়ে এর সুস্পষ্ট উত্তর দিয়েছেন। একটি শৃগাল পূর্ব জন্মে নিকৃষ্ট রাজা ছিল। এবারে শৃগাল জন্মে তার পূর্বের কর্মস্মৃতি জেগে থাকায় সে মাংস ভোজন করত না এবং সাত্ত্বিক জীবন যাপন করত। এর ফলে অন্য শৃগালরা বিরক্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু বনের বাঘ তাকে মন্ত্রী করে, শৃগালের অনিচ্ছা সত্ত্বেও। এই দেখে অন্য শৃগালরা তাকে অপদস্থ করে এবং রাজাকে কুমন্ত্রণা দিয়ে তাকে বরখাস্ত করায়। মন্ত্রী সাত্ত্বিক শৃগালের বিরুদ্ধে অন্য শৃগালরা হিংসায় জ্বলে যায়। ফলে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে রাজার কাছে তাকে অপদস্ত করে এবং শেষ পর্যন্ত রাজা বাঘ বিচার বোধ সঠিকভাবে প্রয়োগ না করেই ধূর্ত শৃগালদের কোথায় বিশ্বাস করে এই প্রিয় মন্ত্রীকে বরখাস্ত করে। এরপর রাজার মা প্রকৃত ঘটনা জানতে পেরে মন্ত্রী যে নির্দোষ তা বাঘকে বলে। মায়ের কথায় ভুল বুঝতে পেরে রাজা বাঘ মন্ত্রী শৃগালকে পদে থেকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে। এর উত্তরে মন্ত্রী শৃগাল বলল, রাজা আমাকে আপনি সম্মান করে নিয়ে এলেন। আবার এখন অপমান করলেন, প্রাণে মারতেও চেয়েছিলেন, আমি তো এখানে আর থাকতে পারিনা। গৌরবচ্যুত হলে সেখান থেকে চলে যেতে হয়। অন্য প্রকার জীবনের উপায় করা তখন কর্তব্য। আপনি প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে আমায় অপমান করেছেন, সব বলে প্রচার করেও পরে অসৎ বলেছেন। এখন তো অবজ্ঞার পাত্র আমি। আমার উদ্বেগ বেড়েই চলবে। আপনার ভয়েই তো ভীত আমি, আমার প্রাণ তো আপনার হাতেই। যে প্রীতি একবার ভেঙ্গে গেছে তাকে আবার জোড়া দিলেও সেই স্নেহ থাকে না। মানুষকে চেনা সবচেয়ে কঠিন কাজ। হয়তো তুইবো এই যোগাযোগ ঘটিয়েছে। আমারই মঙ্গলের জন্য। এই বলে শৃগাল-মন্ত্রী রাজাকে বুঝিয়ে বলে চলে গেল এবং দেহান্তে পরমপদ লাভ করল।

