হট টপিক
চরমপন্থীদের তীব্র বিরোধিতা: লাহোরে রাস্তার নাম বদলের সিদ্ধান্ত স্থগিত
প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: চরমপন্থী সংগঠনগুলোর তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত বড়সড় পিছুটান দিতে বাধ্য হলো পাকিস্তানের পাঞ্জাব সরকার। লাহোরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক রাস্তা ও এলাকার নাম পরিবর্তন করে ঔপনিবেশিক আমলের পুরনো নাম ফিরিয়ে আনার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা থেকে আপাতত পিছিয়ে এলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মারিয়ম নওয়াজ। চরমপন্থীদের চাপের মুখে পড়ে তাঁর প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।
পাঞ্জাবের ক্ষমতায় আসার পরেই মুখ্যমন্ত্রী মারিয়ম নওয়াজ লাহোরের প্রাচীন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যগুলোর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দিয়েছিলেন। এই উদ্দেশ্যে তাঁর সরকার 'লাহোর অথরিটি ফর হেরিটেজ রিভাইভাল' (LAHR) নামে একটি বিশেষ সংস্থা গঠন করে। সম্প্রতি এই সংস্থাই লাহোরের বেশ কিছু এলাকার পুরনো নাম, যা ব্রিটিশ আমল বা তারও আগের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত, তা পুনরায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।
কিন্তু সরকারের এই ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগের কথা প্রকাশ্যে আসতেই আসরে নামে পাকিস্তানের বেশ কিছু চরমপন্থী ও রক্ষণশীল সংগঠন। মারিয়ম নওয়াজ প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে তারা তীব্রভাবে আক্রমণ করে। চরমপন্থীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, পাকিস্তান একটি মুসলিমপ্রধান দেশ। সেখানে পুরনো নাম ফিরিয়ে আনার অর্থ হলো পরোক্ষভাবে ‘হিন্দু ও শিখ পরিচয়’ পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করা। এই বিষয়টিকে একটি বড় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইস্যু বানিয়ে তারা সরকারের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে।
যদিও লাহোর প্রশাসনের প্রস্তাব অনুসারে, ফতিমা জিন্নাহ রোডের নাম বদলে হওয়ার কথা ছিল কুইনস রোড। আল্লামা ইকবালের নামাঙ্কিত রাস্তার নাম বদলে হত ঔপনিবেশিক আমলের জেল রোড। ইসলামপুরা ও জাফর আলি খান চক ফিরে পেত তাঁদের পুরানো নাম কৃষ্ণপুর ও লক্ষ্মী চক। একইভাবে মুস্তাফাবাদের নাম বদলে হওয়ার কথা ছিল ধরমপুরা। হামিদ নিজামি রোডের নাম বদলে হত টেম্পল স্ট্রিট। বাবরি মসজিদ চক ফিরে পেত তার পুরানো নাম জৈন মন্দির রোড। তবে চরমপন্থীদের বিরোধিতার জেরে আপাতত সব সিদ্ধান্তই স্থগিত রাখা হয়েছে। লাহোরের ডেপুটি কমিশনার ক্যাপ্টেন (অবসরপ্রাপ্ত) মহম্মদ আলি ইজাজ জানিয়েছেন, নাম পরিবর্তনের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে।
পরিস্থিতি জটিল হতে দেখে এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত মারিয়ম নওয়াজের সরকারকে পিছু হটতে হয়েছে। এই ঘটনায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঐতিহ্য রক্ষার মতো একটি সাধারণ ও সাংস্কৃতিক বিষয়েও চরমপন্থীদের কাছে সরকারের এই নতিস্বীকার পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে রক্ষণশীলদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকেই আরও একবার স্পষ্ট করে দিল।

