হট টপিক
হারের ধাক্কা সামলে, ধর্ণায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রকাশিত: ২ জুন, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা: বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় বিপর্যয়ের এক মাস কাটতে না কাটতেই তৃণমূল কংগ্রেসে ক্রমশ বাড়ছে ‘বেসুরো’ বিধায়কদের সংখ্যা। একই সাথে জোরাল হচ্ছে দল ভাঙার আশঙ্কা। একের পর এক বিধায়ক দলবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় রীতিমতো অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির। দলের এই চরম সংকটের আবহে এবার নিজেই সরাসরি রাজপথে নামলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্ণা কর্মসূচিতে সামিল হন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলে চরম অসন্তোষের আবহ তৈরি হয়েছে। বহু বিধায়ক ও প্রথম সারির নেতা প্রকাশ্যেই দলের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। বিধানসভা সই জালকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ইতিপূর্বেই একাধিক বিধায়কের নাম জড়িয়েছে এবং দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনাও ঘটেছে। এরপর থেকেই দলের অন্দরে ভাঙন ধরার ভীতি আরও চেপে বসেছে নেতৃত্বকে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং দলের রাশ নিজের হাতে রাখতে ধরনা মঞ্চকেই বেছে নিলেন মমতা।
এদিন ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধরনা মঞ্চ থেকে দলের বিদ্রোহী নেতাদের কড়া বার্তা দেন তৃণমূলনেত্রী। তিনি বুঝিয়ে দেন যে, দলবিরোধী কোনো কাজই বরদাস্ত করা হবে না। দলের কঠিন সময়ে যাঁরা চলে যেতে চান, তাঁদের জন্য দরজা খোলা রয়েছে বলেও স্পষ্ট জানান তিনি। তবে শুধু দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যাই নয়, এই ধরনা মঞ্চ থেকে বর্তমান শাসকদলের নানা নীতি ও কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধেও সরব হন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল লড়াইয়ের ময়দান থেকে উঠে আসা দল। কোনো ভয় দেখিয়ে বা লোভ দেখিয়ে এই দলকে ভাঙা যাবে না। কর্মীরাই দলের আসল শক্তি।
ভোটের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই যেভাবে একের পর এক বিধায়ক বেঁকে বসছেন, তাতে দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত নিচুতলার কর্মীরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আচমকা ধরনা কর্মসূচি আসলে দলের বিক্ষুব্ধ অংশকে একটি কড়া হুঁশিয়ারি। একই সাথে এর মাধ্যমে তিনি আমজনতা ও কর্মীদের এই বার্তাই দিতে চাইলেন যে, দলের রাশ এখনও তাঁর হাতেই মজবুত রয়েছে।
এদিন দুপুর দু’টো নাগাদ কালীঘাটের বাড়ি থেকে রওনা হন তৃণমূলনেত্রী। সঙ্গে ছিলেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র এবং সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলায় প্রথমে আম্বেদকরের মূর্তিতে সংবিধান রেখে ও মালা দিয়ে ‘নতুন যুদ্ধে’র সূচনা করেন তিনি। তারপরে যান গান্ধী মূর্তিতে। জাতির জনকের মূর্তিতে মালা দিয়ে ওয়াই চ্যানেলের ধরনাস্থলে আসেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। ধর্ণাস্থলে দেখা গিয়েছে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, অসীমা পাত্র, দোলা সেন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়দের।

