মানুষ কখন বিনষ্ট হয়
সাধুত্ব গড়ে ওঠার একমাত্র পথ হলো উচ্চকোটির মানুষের সঙ্গ করা। সেই মানুষটি যত কঠোর হবে, ততই মহৎ ভাবে ও দ্রুত সাধুত্ব গড়ে উঠবে। ওই কঠোর মানুষটি যদি সংসারী মানুষও হয়, ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। কারণ সাধুত্ব অভ্যাসের কালে আমাদের ঈশ্বরের ইচ্ছার উপর দৃঢ় বিশ্বাস থাকা প্রয়োজন। পূজ্যপাদ স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দ বলছেন, আমাদের আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য এই ধরনের কঠিন সংসারী মানুষের সঙ্গ যদি প্রয়োজন না হতো, তাহলে ঈশ্বর তাকে আমাদের কাছে পাঠাতেন না। শীঘ্র আমরা বাস্তবজীবনে আরও উচ্চ স্তরের সাধুত্বে উন্নীত হতে পারব, ঈশ্বর নিশ্চয়ই ওই কঠোর ব্যক্তির আচার-ব্যবহারের পরিবর্তন সাধন করবেন। এটি কেবলমাত্র আমাদের সাধুত্বকেই বাড়ায় না, সেই সঙ্গে ঈশ্বরের ইচ্ছার উপর নির্ভরতার মনোভাবকেও বাড়িয়ে তোলে। উচ্চভাবনার চর্চার ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয়ে সচেতন থাকতে হয়, তা হল—নিজের কোন ভালো গুণের প্রতি সচেতন না থাকা ও উল্লেখ না করা। আমি তোমাকে প্রশংসা করতে পারি কিন্তু তুমি তাতে অবশ্যই সামান্যমাত্রও উল্লসিত হবে না , হলে ওই গুণটির বিকাশক্ষমতা ও আনন্দময়তার প্রভাবটি হারাবে। আধ্যাত্মিক নীতির রহস্যটি সর্বদা মনে রাখতে হবে—কোন ব্যক্তি যখনই কোন বিষয়ে মনকে রঞ্জিত করে ফেলবে এবং তার ফলে প্রদত্ত বস্তুটির প্রতি সব ধরনের কামনা তার বৃদ্ধি পাবে, তখনই সে জিনিসটাকে হারাবে। পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আসামাত্রই তৎক্ষণাৎ কোন জিনিস পাওয়ার আশা করোনা। করলে, সেটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপদ ও দুঃখ আসবে। আকাঙ্ক্ষা করো না, তাহলেই তুমি আশাহত হবে না এবং তোমার উন্নতি হবে মসৃণ ও সফল। বিষয়ের চিন্তা করতে করতে মানুষের তাতে আসক্তি জন্মায়, আসক্তি থেকে কামনার উৎপত্তি হয়, কামনা ব্যাহত হলে ক্রোধ জন্মায়। ক্রোধ থেকে অবিবেক এবং অবিবেক থেকে স্মৃতির বিলোপ হয়।স্মৃতিবিভ্রম হলে বিচারবুদ্ধি লোপ পায় এবং বিচারবুদ্ধি নষ্ট হলে মানুষ স্বয়ং বিনষ্ট হয়।

