হট টপিক
দিল্লিতে মোদী-শুভেন্দু মেগা বৈঠক: অর্থসাহায্য নিয়ে কথা
প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম দিল্লি সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার রাজধানী দিল্লির ৭ নম্বর লোককল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এই দুই নেতার মধ্যে এক দীর্ঘ এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন হয়। সূত্রের খবর, এই বৈঠকের মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান আর্থিক সংকট এবং তা কাটিয়ে উঠতে কেন্দ্রের বিশেষ অর্থ সাহায্য ও প্যাকেজের যৌক্তিকতা।
অর্থনৈতিক সংকট মেটাতে কেন্দ্রের দ্বারস্থ নতুন মুখ্যমন্ত্রী
পশ্চিমবঙ্গের শাসনভার হাতে নেওয়ার পর থেকেই নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্যের বিপুল পরিমাণ ঋণ এবং রাজকোষের শূন্য অবস্থা। ভোটের আগে রাজ্যবাসীর স্বার্থে বেশ কিছু বড় এবং জনমোহিনী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে অন্যতম নারীদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা দেওয়ার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। অর্থনীতিবিদদের মতে, এক দিকে পাহাড়প্রমাণ ধারের বোঝা, আর অন্য দিকে এই ধরনের বৃহৎ সামাজিক প্রকল্পগুলির আর্থিক দায়— দুইয়ের জেরে রাজ্যের কোষাগারের উপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় অর্থ সাহায্য ছাড়া বাংলার ঘুরে দাঁড়ানো কার্যত অসম্ভব। সূত্রের মতে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সম্ভবত সেই বার্তাটি দেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী যথাসম্ভব সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলার জন্য কোনও আর্থিক প্যাকেজ চাওয়া হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু বলেন, এ প্রসঙ্গে আমি কিছু বলব না।
‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের অগ্রগতির রোডম্যাপ
বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান যে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর 'সবকা সাথ, সবকা বিকাশ' মন্ত্রের কথা পুনর্ব্যক্ত করে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বাংলার উন্নয়ন কেন্দ্রের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বছরের পর বছর ধরে চলা স্থবিরতা কাটিয়ে রাজ্যকে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের পথে ফেরাতে কেন্দ্র সব ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক সাহায্য দেবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই দলের সরকার অর্থাৎ এই ‘ডবল ইঞ্জিন’ মডেলকে কাজে লাগিয়ে বাংলায় ব্যাপক কেন্দ্রীয় বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা চলছে, যা রাজ্যের শূন্য রাজকোষকে নতুন করে অক্সিজেন দেবে।
স্বচ্ছ প্রশাসন ও জনকল্যাণে জোর
বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজের আবেদনের পাশাপাশি এদিনের বৈঠকে রাজ্যের সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সঠিক বাস্তবায়ন নিয়েও কথা হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী নতুন সরকারকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে কেন্দ্রের পাঠানো প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার হয় এবং তা সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়। কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়া রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্প যে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সৌজন্যে ধীরে ধীরে গতি পাচ্ছে, তা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু নিজেই।

