নিউটাউনের প্রৌঢ়াকে বিয়ের টোপ, ১৭ লক্ষ টাকা হাতাল ‘ব্রিটেনে কর্মরত’ পাত্র
নিজস্ব প্রতিনিধি: বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রৌঢ়ার কাছ থেকে প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল এক সাইবার প্রতারকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার নিউটাউন এলাকায়। প্রতারণার শিকার ওই নারী শেষ বয়সে একটু মানসিক সঙ্গী পাওয়ার আশায় বিশ্বাস করেছিলেন ওই ব্যক্তিকে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হলো তাঁকে। এই ঘটনায় ওই প্রৌঢ়া বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগকারী প্রৌঢ়ার বয়স ৫১ বছর এবং তিনি নিউটাউনের একটি নামী আবাসন কমপ্লেক্সে থাকেন। গত এপ্রিল মাসে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই ব্যক্তি নিজেকে একটি বড় নামী সংস্থায় কর্মরত এবং বর্তমানে ব্রিটেনে (যুক্তরাজ্য) আছেন বলে দাবি করে। এরপর দু'জনের মধ্যে নিয়মিত কথা হতে শুরু করে। কথাবার্তা বাড়তে বাড়তে তা একসময় গভীর বন্ধুত্ব এবং প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়।
সম্পর্ক কিছুটা এগোতেই ওই ব্যক্তি প্রৌঢ়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। সে জানায় যে সে প্রৌঢ়াকে বিয়ে করে থিতু হতে চায়। একাকীত্ব কাটাতে এবং জীবনের বাকি সময়টা একসঙ্গে কাটানোর আশায় প্রৌঢ়াও সানন্দে সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। এরপর থেকে প্রতিদিন হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস ও ভিডিও কলের মাধ্যমে তাঁদের যোগাযোগ চলত। এভাবে নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রৌঢ়ার মনে সম্পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে নেয় ওই প্রতারক।
সম্পর্ক যখন বেশ গভীর, তখন হঠাৎ করেই একদিন ওই ব্যক্তি প্রৌঢ়াকে ফোন করে জানায় সে এক চরম বিপদে পড়েছে। তার পরিবারে একটি বড় ‘মেডিকেল ইমার্জেন্সি’ বা চিকিৎসার জরুরি প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। চিকিৎসার জন্য তার এককালীন অনেক টাকার প্রয়োজন। হবু স্বামীর এই কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁকে সাহায্য করতে একটুও দ্বিধা করেননি ওই নারী। তিনি সরল বিশ্বাসে বিভিন্ন দফায় মোট ১৬ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা (প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা) ওই ব্যক্তির দেওয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন।
টাকা হাতে পাওয়ার পরেই ওই ব্যক্তির আসল রূপ প্রকাশ পায়। অ্যাকাউন্ট টাকা জমা পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সে প্রৌঢ়ার ফোন নম্বরটি তার সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ব্লক করে দেয়। প্রৌঢ়া বুঝতে পারেন তাঁর সাথে বড় রকমের প্রতারণা করা হয়েছে, কিন্তু তখন তাঁর আর কিছুই করার ছিল না।
বর্তমানে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ফোন নম্বরের সূত্র ধরে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাপ হওয়া অপরিচিত ব্যক্তির ওপর এভাবে অন্ধবিশ্বাস করা এবং টাকার লেনদেন করা একেবারেই উচিত নয়।

