নিজের টাকা খরচ করে ‘আদর্শ’ বার্তা ভাতারের বিধায়ক সৌমেনের
নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান: “রাজনীতিতে সবাই ডাকাত বা শুধু সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিতে আসে না।” প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিকের স্ত্রীর প্রসবের সাড়ে ৬ লক্ষ টাকার সরকারি বিল বিঁধে এমনই বক্তব্য পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের বিজেপি বিধায়ক সৌমেন কার্ফা। তৃণমূল জমানার বিপুল ঋণের বোঝা ও করদাতার টাকার অপচয় রুখতে নিজের স্ত্রীর সন্তান প্রসবের সম্পূর্ণ বিল পারিবারিক ও ব্যবসায়িক তহবিল থেকে মিটিয়ে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন তিনি। তাঁর এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে ‘আদর্শ জনসেবা’ ও ‘দেশপ্রেম’-এর এক বিরল বার্তা হিসেবে উঠে এসেছে।
সম্প্রতি বিজেপি বিধায়ক সৌমেন কার্ফার কন্যাসন্তান হয়েছে। কলকাতার একটি প্রথম সারির বেসরকারি নার্সিংহোমে তাঁর স্ত্রীর প্রসবের জন্য কয়েক লক্ষ টাকার বিল হয়। এক জন বিধায়ক হিসেবে এই খরচের সবটুকু সরকারি তহবিল থেকে নেওয়ার আইনি অধিকার তাঁর ছিল। কিন্তু চিকিৎসাকেন্দ্রের বিল তিনি নিজের পকেট থেকেই মেটানোর সিদ্ধান্ত নেন। এই বিষয়ে বিধায়ক সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “তৃণমূলের কাঞ্চন মল্লিকদের মতো মানসিকতা সবার নয়, যাঁরা সরকারি অর্থে সাড়ে ৬ লক্ষ টাকার বিল জমা করেন। আমি আমার পারিবারিক ও ব্যবসায়িক উপার্জনের টাকা দিয়ে সন্তানের হাসপাতাল বিল মিটিয়েছি। এখনও অনেকে মানুষ, আদর্শ ও জনসেবার নেশায় ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ান।” নিজের রাজনৈতিক গুরু ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে আদর্শ মেনে সৌমেনবাবু আরও জানান, শুভেন্দুবাবুও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনও সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেন না। সেই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই তাঁর এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। বিধায়কের কথায়, “নির্বাচিত হওয়ার পর জানতে পেরেছি বিগত সরকারের কয়েক লক্ষ হাজার কোটি টাকার দেনা রয়েছে সাধারণ মানুষের মাথায়। তাই নিজের অর্থনৈতিক সামর্থ্য থাকতে কেন আমি সরকারের করের টাকা খরচ করব?”
তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করে ভাতারের বিধায়ক স্পষ্ট জানান, সবাই যেন আয়নায় নিজের মুখ দেখে অন্য সবাইকে তাঁদের মতো সুবিধাবাদী না ভাবেন। এই ঘটনার পর জেলার রাজনৈতিক মহলে সৌমেন কার্ফার এই সততা ও ভিন্ন রাজনৈতিক মনোভাব নিয়ে ব্যাপক প্রশংসা শুরু হয়েছে।

