বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

প্রেমিককে খুন করে ইউটিউব দেখে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা

প্রকাশিত: ৩ জুন, ২০২৬
প্রেমিককে খুন করে ইউটিউব দেখে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ উত্তরপ্রদেশে এক হাড়হিম করা অপরাধের ঘটনা সামনে এসেছে। স্বামীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজের প্রেমিককে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, হত্যাকাণ্ডের পর কীভাবে লাশের সমস্ত প্রমাণ ও চিহ্ন মুছে ফেলা যায়, তা ইন্টারনেটে খোঁজাখুঁজি করেন ওই দম্পতি। পুলিশের দাবি, খুনের পর দেহ লোপাট করতে তাঁরা রীতিমতো ঠান্ডা মাথায় ইউটিউব এবং গুগলের সাহায্য নিয়েছিলেন। ইতিমধ্যেই পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে।

তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের ফতেহপুরের বাসিন্দা কিরণ দেবী নামের ওই গৃহবধূর সঙ্গে বিজয় নিষাদ নামে এক যুবকের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কিরণের স্বামী কামতা নিষাদ কর্মসূত্রে গুজরাটে থাকতেন। সম্প্রতি সোশ‍্যাল মিডিয়ায় কিরণের কিছু ঘনিষ্ঠ ছবি দেখতে পান তাঁর স্বামী। এর পরেই কামতা বাড়ি ফিরে আসেন এবং স্ত্রীর সঙ্গে মিলে বিজয়কে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি ভয়ঙ্কর নীল নকশা তৈরি করেন। গত মে মাসের শুরুতে পরিকল্পনা অনুযায়ী বিজয়কে ডেকে এনে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়।
পুলিশি জেরায় জানা গিয়েছে, খুনের পর অপরাধ ঢাকতে ওই দম্পতি চরম নৃশংসতার পথ বেছে নেন। তাঁরা বিজয়ের মৃতদেহটি প্রথমে বস্তায় ভরার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে সফল না হওয়ায় একটি করাত এবং গ্রাইন্ডার মেশিন দিয়ে দেহটি কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়। এরপর সেই দেহের অংশগুলি পাশের কানপুর নগর জেলার একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে পেট্রোল দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়। পরিচয় লুকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে তাঁরা বিজয়ের মোবাইল ফোন, এটিএম কার্ড, জুতো এবং জামাকাপড়ও বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে দেন।
এই নিখুঁত অপরাধের ছক সাজাতে তাঁরা পুরোপুরি প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েছিলেন। খুনের পর পুলিশকে কীভাবে ফাঁকি দেওয়া যায়, কীভাবে ফাঁসির সাজা এড়ানো সম্ভব, এমনকি এনকাউন্টার থেকে বাঁচার উপায় কী—সবকিছুই তাঁরা ইউটিউবে ভিডিও দেখে জানার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। বিজয়ের পরিবারের নিখোঁজ ডায়েরির ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ কিরণের ফোনের অতিরিক্ত কল রেকর্ড দেখতে পায়। সন্দেহ হওয়ায় দম্পতির ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে তাঁদের এই ভয়ংকর 'সার্চ হিস্ট্রি' বা ইন্টারনেটের তথ্য সামনে চলে আসে। পুলিশি জেরার মুখে শেষপর্যন্ত নিজেদের অপরাধ কবুল করেছেন ওই ঘাতক দম্পতি। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে পোড়া পোশাক এবং খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রও।