বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

প্রকৃত সভ্যতার অর্থ

প্রকাশিত: ৩ জুন, ২০২৬
প্রকৃত সভ্যতার অর্থ
সন্দীপ সিনহাসন্দীপ সিনহা
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

বর্তমানে সমস্ত স্তরের মানুষ অধিক শ্রম, বিশ্রামহীনতা, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ এবং বিরামহীন ব্যস্ততায় বিপর্যস্ত। দরিদ্র শ্রেণীর মানুষেরা আদর্শ করছে মধ্যবিত্তদের, মধ্যবিত্তরা কোটিপতিদের ---- এইভাবে চলছে। বহু মানুষ এত পরিমাণ অর্থ ও বৈষয়িক সম্পদ সঞ্চয় করেছে যা তাদের কয়েক পুরুষ বসে খাবে। অথচ তারাও কেউ তৃপ্ত নয়। আরও চাই, আরও চাই — অবিরাম এই চাওয়ার অভ্যাস মানুষের জীবনীশক্তিকে ক্রমাগত ক্ষয় করে ফেলছে, তাদের মানসিক ও শারীরিক সাম্যকে বিনষ্ট করছে। স্বাভাবিকভাবেই মানুষ আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ক্রমশ দূরে চলে যাচ্ছে। জীবন দর্শন সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণাটুকও গড়ে উঠছে না। আধুনিক সভ্যতার এ এক ভয়ানক দিক। ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি বলেছেন, পৃথিবীতে যত সভ্যতা ধ্বংস হয়েছে তার প্রধান কারণ এই আধ্যাত্মিক জীবন দর্শনের অভাবজনিত কারণে। প্রকৃত সভ্যতা মূলত নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মানদণ্ডের উপর প্রতিষ্ঠিত। এই সভ্যতা মানুষের অন্তরকে পরিষ্কার করে বা সংস্কৃত করে তুচ্ছ জাগতিক মনোভাবের বদলে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক আদর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন করতে প্রেরণা দেয়। যে সভ্যতা নিশ্চিতভাবে মানুষকে কপটতা শেখায়, লোভী করে তোলে, ঈর্ষান্বিত করায়, প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে একেবারে নিয়ম-শৃঙ্খলাহীন করে তোলে—সেই সভ্যতা কখনো কোন জাতিকে স্থায়ীভাবে মহত্বের লক্ষ্যে নিয়ে যেতে পারে না এবং তার জনগণকে প্রকৃত সুখের সন্ধান দিতে পারেনা। তাই আজ আমরা দেখছি, মানুষের চাহিদা এতই বেড়েছে যে, মানুষ এই ধরনের কৃত্রিম চাহিদাগুলি মেটানোর জন্য মৃত্যুর দাসে পরিণত হচ্ছে। এখন দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ শুধু পান-ভোজনের জন্যই বেঁচে আছে। মানুষ ফ্যাশনের বিবর্তন অনুযায়ী নামিদামি নিত্যনতুন ফ্যাশনের পোষাক পরে। ভোগ বাসনার একরকম অদম্য ইচ্ছা মানুষকে ইন্দ্রিয়সর্বস্ব জীবনের দিকেই ঠেলে দিচ্ছে। মানুষ এটুকু বুঝতে চাইছে না যে, বাসনা যত চরিতার্থ হয়  তা বেড়েই যায়, ঠিক আগুনে ঘৃতাহুতি দেবার মত। খাদ্য-বস্ত্র যাদের অনেক আছে তারা কিভাবে খাবে, আর কি কি পরবে তা নিয়েই ব্যতিব্যস্ত। অনেকের কাছে তো আবার এটিই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য। সুতরাং আধ্যাত্মিক ভাবনায় ভাবিত না হলে তথাকথিত এই সভ্যতা হবে বর্বরতার সমান।