হট টপিক
আরজি কর কাণ্ডে বিপাকে রচনা, এফআইআর
প্রকাশিত: ২ জুন, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা: আরজি কর কাণ্ডে এবার বড়সড় আইনি বিপাকে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৪ সালে ঘটে যাওয়া তিলত্তমা কাণ্ডের স্মৃতি উস্কে তাঁর বিরুদ্ধে দক্ষিণ কলকাতার চারু মার্কেট থানায় একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এবং দেশের আইন অনুযায়ী যেকোনো ধর্ষণের ঘটনায় নির্যাতিতার নাম প্রকাশ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগ, আরজি করের সেই মর্মান্তিক ঘটনার সময় রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে নির্যাতিতার নাম উল্লেখ করেছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে যখন আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা নিয়ে গোটা দেশ উত্তাল ছিল, সেই সময়ই রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এই অভিযোগটি সামনে এসেছিল। অভিযোগকারী জানিয়েছেন, সেই সময় ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে চারু মার্কেট থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন কেটে যাওয়ার পর এবার সেই পুরোনো অভিযোগের ভিত্তিতেই চারু মার্কেট থানা সাংসদের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল এফআইআর দায়ের করেছে।
আইনজীবীদের মতে, ভারতীয় দণ্ডবিধির নিয়ম অনুযায়ী যৌন হেনস্থা বা ধর্ষণের শিকার হওয়া কোনো নারীর আসল নাম, পরিচয় বা ছবি কোনোভাবেই প্রকাশ করা যায় না। তা সে সংবাদমাধ্যম হোক কিংবা কোনো জনপ্রতিনিধি— এই নিয়ম সবার জন্যই প্রযোজ্য। আরজি করের ঘটনার সময় এই নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে একাধিক ব্যক্তিত্বের নাম জড়িয়েছিল। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন সেলিব্রিটি এবং একই সাথে লোকসভার সাংসদ হওয়ায় তাঁর মুখে নির্যাতিতার নাম উচ্চারণ হওয়াকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে আইনি মহল।
এই এফআইআর দায়ের হওয়ার পর দক্ষিণ কলকাতা সহ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এফআইআর দায়ের হওয়ার পর এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, সেই আলোড়নের সময় আমরা সবাই খুব আবেগপ্রবণ ছিলাম। সেই সময় হয়তো কোনও সাক্ষাৎকারের মাঝে অজান্তে আমার মুখ দিয়ে নির্যাতিতার নাম বেরিয়ে গিয়েছিল.... তার জন্য পরবর্তীতে আমি দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমাও চেয়েছিলাম..... এবার কেউ যদি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তাহলে আমাকেও আইনি পথে এগোতে হবে..... আমি আমার আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে আইনি পথে এগোবো।

