হট টপিক
নিয়ন্ত্রণের বাইরে যৌন আকাঙ্ক্ষা? ‘সেক্স অ্যাডিকশন’ আসলে একটি মানসিক ব্যাধি
প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: অতিরিক্ত যৌন আকাঙ্ক্ষা বা সর্বক্ষণ যৌন চিন্তা কি কেবলই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে কোনো গভীর মানসিক সমস্যা? চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, এটি আসলে একটি জটিল মানসিক ও আচরণগত অবস্থা, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'যৌন আসক্তি' (Sex Addiction) বা অতিকামিতা নামে পরিচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ইতিমধ্যেই এটিকে 'কমপালসিভ সেক্সুয়াল বিহেভিয়ার ডিসঅর্ডার' (CSBD) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। মাদক বা অ্যালকোহলের মতো এটি কোনো সরাসরি শারীরিক নেশা না হলেও, মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর এর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আসক্তির কিছু স্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে যা দেখে আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা সম্ভব:
সারাক্ষণ যৌন চিন্তা: সারাদিন মাথায় যৌন কল্পনা ঘুরে বেড়ানো, পর্নোগ্রাফি দেখা বা হস্তমৈথুনে লিপ্ত থাকা এবং শত চেষ্টা করেও তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা।
ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ: নিজের বা অন্যের সীমানা লঙ্ঘন করে সুরক্ষিত নয় এমন যৌন কার্যকলাপে জড়ানো।
দায়িত্বে অবহেলা: যৌনতার পেছনে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করার ফলে কর্মক্ষেত্র বা পারিবারিক দায়িত্ব এড়িয়ে চলা।
মানসিক অস্থিরতা: চাহিদা পূরণ না হলে তীব্র ছটফটানি ও রাগ হওয়া এবং পরে অপরাধবোধে ভোগা।
শারীরিক ঝুঁকি: একাধিক সঙ্গীর কারণে ঘন ঘন যৌনরোগ (STD/HIV) সংক্রমণের শিকার হওয়া।
কেন হয় এই আসক্তি? মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এর পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করে। প্রথমত, মস্তিষ্কে ডোপামিন বা সেরোটোনিনের মতো রাসায়নিকের ভারসাম্যহীনতা। দ্বিতীয়ত, অতীতের কোনো বড় মানসিক আঘাত বা ট্রমা। এবং তৃতীয়ত, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বা হতাশা থেকে সাময়িক মুক্তির উপায় হিসেবে যৌনতাকে বেছে নেওয়া।
চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যৌন আসক্তি কোনো অপরাধ নয়, এটি একটি নিরাময়যোগ্য মানসিক সমস্যা। সঠিক পদক্ষেপ নিলে এই অবস্থা থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব। থেরাপিস্ট বা সাইকোলজিস্টের কাছ থেকে কগনিটিভ বিহেভিয়ারেল থেরাপি (CBT) নেওয়া, যা চিন্তাভাবনা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পরিবারের সদস্য বা জীবনসঙ্গীর সাথে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা এবং প্রয়োজনে সাপোর্ট গ্রুপের সাহায্য নেওয়া। পর্নোগ্রাফি দেখার ওয়েবসাইটগুলো ব্লক করা এবং অতিরিক্ত ফাঁকা সময় কাটাতে ব্যায়াম, বাগান করা বা সামাজিক কোনো গঠনমূলক কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা।
লজ্জা বা সামাজিক ভয়ের কারণে এই সমস্যাটি লুকিয়ে রাখলে তা আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

