হট টপিক
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ফাঁসের জেরে আত্মহত্যা
প্রকাশিত: ৪ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ পুরনো সম্পর্কের এক তিক্ত পরিণতি এবং অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার জেরে এক নার্সিং পড়ুয়ার আত্মহত্যার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ থানার অন্তর্গত গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েতের বিশাহার গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। মৃত যুবকের নাম আবু কায়েম (২৪)। তিনি ব্যাঙ্গালোরের একটি বেসরকারি সংস্থায় স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কর্মরত থাকার পাশাপাশি নার্সিংয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আবু কায়েম ব্যাঙ্গালোরে পড়াশোনা ও চাকরির সূত্রে থাকতেন। সম্প্রতি তিনি নিজের গ্রামের বাড়ি বিশাহারে এসেছিলেন। অভিযোগ, বেশ কিছুদিন আগে এক যুবতীর সঙ্গে তাঁর একটি প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরবর্তী সময়ে সেই সম্পর্ক ভেঙে গেলেও যুবকের কাছে ওই সম্পর্কের কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও তথ্য ছিল। সম্প্রতি সেই পুরনো সম্পর্কের কিছু ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
ছবিগুলি ইন্টারনেটে ভাইরাল হতেই মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন ওই যুবক। তীব্র সামাজিক অপমান এবং লজ্জার গ্লানি সহ্য করতে না পেরেই তিনি চরম সিদ্ধান্ত নেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করার পর ওই নার্সিং পড়ুয়াকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছায় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।
মৃত যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে রায়গঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে এবং ব্ল্যাকমেল করার উদ্দেশ্যেই এই ছবিগুলি ইন্টারনেটে ছড়ানো হয়েছে, যা ওই যুবককে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। যে অ্যাকাউন্ট বা উৎস থেকে এই ছবিগুলি প্রথম ছড়ানো হয়েছিল, সাইবার সেলের সাহায্য নিয়ে তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। মৃতের মা নূরজাহান বেগমের অভিযোগ, তাঁর ছেলের সরলতার সুযোগ নিয়ে ওই তরুণী আপত্তিকর ছবি তুলে রেখেছিল এবং বিয়ে ভাঙার জন্য আজ তা সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুদের মধ্যে শেয়ার করেছে। এই চরম অপমানই তাঁর ছেলের মৃত্যুর কারণ।
অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার এবং সাইবার অপরাধের কারণে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই ধরণের আত্মহননের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। এই ঘটনার পেছনে কার হাত রয়েছে এবং কে বা কারা এই ছবি ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত, তা খতিয়ে দেখে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৃতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা।

