হট টপিক
সুরেন্দ্রনাথ কলেজে এসি বেডরুম ও টাকা উদ্ধার
প্রকাশিত: ৩ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কলকাতার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুরেন্দ্রনাথ কলেজকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে। কলেজের ছাত্র সংসদের ইউনিয়ন রুম থেকে উইপোকায় কাটা দুটি ব্যাগ ভর্তি লক্ষাধিক টাকা উদ্ধারের ঘটনার পরেই এবার সামনে এল এক বিস্ফোরক তথ্য। 'টেরেস ফেসিলিটি' বা ছাদের সুযোগ-সুবিধার নামে কলেজের পাঁচ তলায় তৈরি করা হয়েছিল দুটি বিলাসবহুল এসি রুম। সেখানে এলাহী বিছানা, আরামদায়ক গদি, বালিশ, লাগোয়া বাথরুম, এমনকি আলমারি থেকে গর্ভনিরোধক বা কন্ডোম পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে।
বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ নিজে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে উপস্থিত হয়ে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে এই গোপন আস্তানা ঘুরিয়ে দেখান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। সজল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার কী করুণ দশা হয়েছিল, তা এই ঘটনা থেকেই স্পষ্ট। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা নষ্ট করে কলেজের ভেতরে কীভাবে এই ধরণের অনৈতিক কাজ চলতে পারে, তা নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ইডি (ED) তদন্তের দাবি জানান।
টাকা উদ্ধারের ঘটনার পর এদিন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কলেজে পৌঁছায় মুচিপাড়া থানার পুলিশ। পুলিশ এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে পাঁচতলার ওই ঝাঁ চকচকে গেস্ট রুম, ইউনিয়ন রুম এবং কমন রুমের তালা ভাঙা হয়। কলেজের ছাদ থেকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মদের বোতলও উদ্ধার হয়েছে। কলেজেরই এক অশিক্ষক কর্মচারী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে কানকাটা দেবুর নির্দেশেই এই সমস্ত অনৈতিক কাজ চলত এবং ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না।
এই গোটা বিষয়টি সামনে আসার পর প্রধান অভিযুক্ত তথা তৃণমূল নেতা এবং কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর ও তাঁর দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই এই ধরণের মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া টাকা বা ঘরের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং কলেজ কর্তৃপক্ষই এই বিষয়ে সঠিক উত্তর দিতে পারবে বলে তিনি জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

