হট টপিক
তারকেশ্বরে শুভেন্দুর কটাক্ষ: 'কী দুরবস্থা! ১৫০ লোকও হয়নি'
প্রকাশিত: ২ জুন, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা: মঙ্গলবার এক অন্য রাজনৈতিক মেজাজে দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। এদিন তিনি হুগলির ঐতিহ্যবাহী তারকেশ্বর মন্দিরে গিয়ে প্রথমবার পুজো দিলেন। পুজো দেওয়া শেষে মন্দির চত্বর থেকে বের হতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। আর সেখান থেকেই কলকাতার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা কর্মসূচিকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। হাসতে হাসতে তিনি মন্তব্য করেন, ‘কী দুরবস্থা! ১৫০ লোকও হয়নি’। উল্লেখ্য, তৃণমূল দলটার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে খোঁচা দিয়ে তিনি আগেই বলেছিলেন, তৃণমূল দলটা এখন ফলতা হয়ে গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘ফলতা’ মন্তব্যের পেছনে এক গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। সম্প্রতি ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ফলাফল সামনে এসেছে। সেখানে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট ব্যাঙ্ক ব্যাপকভাবে ধসে গিয়েছে এবং তারা চতুর্থ স্থানে নেমে গিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী পরোক্ষে সেই ফলের দিকেই ইঙ্গিত করে বোঝাতে চেয়েছেন যে, গোটা রাজ্য জুড়েই তৃণমূলের জনভিত্তি এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে। সাধারণ মানুষ যে আর তাঁদের সাথে নেই, ধর্মতলার ধরনা মঞ্চের পাতলা ভিড়ই তার প্রমাণ।
এদিন তারকেশ্বর মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীকে বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখা যায়। মন্দির থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘এ বার আরও বড় করে শ্রাবণী মেলা হবে।’ তারকেশ্বর ট্রাস্টি বোর্ডের আর্থিক সহায়তা বন্ধ করা দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন শুভেন্দু। এ দিনই তিনি ফের ফান্ড চালুর জন্য মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং প্রধান সচিবকে নির্দেশ দেবেন বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে যখন তৃণমূলে বিধায়কদের ‘বেসুরো’ হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে তখন শুভেন্দু অধিকারী একের পর এক তীক্ষ্ণ মন্তব্যে চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলতা পুনর্নির্বাচনের ক্ষত এখনও তৃণমূলের অন্দরে তাজা। সেই ক্ষততেই এদিন তারকেশ্বর থেকে নুন ছেটালেন মুখ্যমন্ত্রী।

