হট টপিক
ছাত্রীর শ্লীলতাহানি: গ্রেফতার অভিযুক্ত ‘গুণধর’ শিক্ষক
প্রকাশিত: ৪ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শিক্ষকের লালসার হাত থেকে বাঁচতে নিজের স্কুল পর্যন্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিল এক নাবালিকা ছাত্রী। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হলো না। অভিযোগ, নিজের কুৎসিত লালসা মেটাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে সেই শিক্ষক। নিজের স্কুলের ছাত্রদের লেলিয়ে দিয়ে ওই নাবালিকা ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করায় সেই ‘গুণধর’ শিক্ষক। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আগেই ছাত্রদের গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এবার মূল চক্রী সেই গৃহশিক্ষককেও গ্রেফতার করল পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত শিক্ষকের নাম প্রসূন বেরা (৪০)। সে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা থানার অন্তর্গত কেলেয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা। তবে এই ভয়ঙ্কর অপরাধের ঘটনাটি ঘটেছে সবং থানা এলাকায়। শিক্ষকের এই নজিরবিহীন ও কলঙ্কজনক আচরণের কথা সামনে আসতেই গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ এই ঘটনার পর ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই ওই নাবালিকা ছাত্রীর ওপর কুদৃষ্টি ছিল শিক্ষক প্রসূন বেরার। শিক্ষকের আপত্তিকর আচরণ ও কুপ্রস্তাব বুঝতে পেরে নিজেকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ওই ছাত্রী। লোকলজ্জা এবং ভয়ের কারণে সে নিজের স্কুল পর্যন্ত পরিবর্তন করে নেয়, যাতে ওই শিক্ষকের নজর থেকে দূরে থাকা যায়। কিন্তু স্কুল বদল করেও রেহাই মেলেনি। ছাত্রীটি তার অবাধ্য হওয়ায় তীব্র প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছিল প্রসূন।
নিজের লালসা পূরণ না হওয়ায় এবং ছাত্রীটি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় ওই শিক্ষক এক জঘন্য পরিকল্পনা করে। সে নিজের স্কুলেরই কয়েকজন ছাত্রকে উস্কানি দেয় এবং তাদের দিয়ে ওই নাবালিকার শ্লীলতাহানি করায়। নির্যাতিতা ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে সবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্তে নামে। ঘটনার ভয়াবহতা বিচার করে পুলিশ প্রথমে অভিযুক্ত ছাত্রদের গ্রেফতার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই ঘটনার পেছনে শিক্ষকের মূল ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পারে পুলিশ।
এরপর বুধবার সবং থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক প্রসূন বেরাকে গ্রেফতার করে। একজন শিক্ষক হয়ে কীভাবে ছাত্রদের দিয়ে এমন জঘন্য অপরাধ করানো সম্ভব, তা ভেবে শিউরে উঠছেন তদন্তকারীরাও। মেদিনীপুরে সাংবাদিক বৈঠক করে পুলিশ সুপার জানান, পলাতক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে আমাদের। শেষমেশ আমাদের এসওজি টিম ওই শিক্ষকের মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে বুধবার বেলা দু’টো নাগাদ নারায়ণগড়ের একটি এলাকা থেকে শিক্ষককে পাকড়াও করে।’ বৃহস্পতিবার ধৃতকে আদালতে পেশ করা হবে বলে জানান এসপি। এদিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর ওই শিক্ষক কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী, মা ও দুই নাবালক সন্তান আছে বলে জানা গিয়েছে।

