হট টপিক
তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়কে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে বিক্ষোভ নিমতায়
প্রকাশিত: ২৮ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক অশান্তির পারদ আরও চড়ল। এবার নিজের সংসদীয় এলাকাতেই নজিরবিহীন ক্ষোভ ও বিক্ষোভের মুখে পড়লেন দমদমের বর্ষীয়ান তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায়। বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার নিমতা থানা চত্বরে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিমতা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শাসকদলের অন্দরের কোন্দল নাকি বিরোধী শিবিরের ক্ষোভ—এই ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে নিমতা এবং উত্তর দমদমের বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক কাউন্সিলরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছিল। দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর এই লাগাতার আক্রমণের প্রতিবাদ জানাতে এবং এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে নিমতা থানায় যান সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব ও কর্মীরাও ছিলেন। থানায় পুলিশের কাছে একটি স্মারকলিপি বা ডেপুটেশন জমা দেন তিনি।
অশান্তির সূত্রপাত হয় সাংসদ থানা থেকে বেরনোর সময়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সৌগত রায় থানা থেকে বের হতেই সেখানে উপস্থিত একদল মানুষ আচমকা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সাংসদকে লক্ষ্য করে স্লোগান দেওয়া হয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন বিক্ষোভকারীদের মধ্য থেকে সৌগত রায়ের গাড়ি লক্ষ্য করে পর পর ডিম ছোড়া হয়। সেই সময় সাংসদের গাড়ি ঘিরে ‘চোর চোর’ স্লোগানও ওঠে। বেশ কয়েকটি ডিম সরাসরি সাংসদের গাড়িতে এসে লাগে। এই আকস্মিক ঘটনায় সাংসদকে ঘেরাটোপে নিয়ে গাড়িতে তুলে এলাকা থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।
নিজের গড় হিসেবে পরিচিত দমদম এলাকার এই ঘটনায় স্বভাবতই চরম অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ঘটনার পর সৌগত রায় বলেন, দলীয় জনপ্রতিনিধিদের উপর হামলার অভিযোগ জানাতেই থানায় এসেছিলাম। কিন্তু থানার বাইরে বেরোতেই পরিকল্পিত ভাবে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এই ঘটনার পিছনে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের হাত রয়েছে।
এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা তথা বরাহনগরের বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, আমি বিষয়টা বলতে পারবো না। বিক্ষোভকারীরা বিজেপি, নাকি ৪ তারিখ দুপুর ১২টার পরে বিজেপি জানি না। এই বিষয়টি জানি না, তাই না জেনে মন্তব্য করা উচিত হবে না। সৌগতবাবু বিগত দিনে যেসব কাজ করেছেন তাতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ থাকতে পারে। এখন এগুলো কে করেছেন, কী কারণে তা জানি না।

