বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

তৃণমূলে ঐতিহাসিক ভাঙন

প্রকাশিত: ৪ জুন, ২০২৬
তৃণমূলে ঐতিহাসিক ভাঙন
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ প্রতিষ্ঠার ২৮ বছর ৫ মাস ২ দিনের মাথায় এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি তৃণমূল কংগ্রেস। শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে দুই টুকরো হয়ে গেল বাংলার শাসক দল। ১৯৯৮ সালে যে দলটিকে নিজের হাতে গড়ে তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এবার তাঁর সর্বভারতীয় সভানেত্রী থাকাকালীনই দলের অন্দরে তৈরি হলো এক শক্তিশালী ‘প্রেশার ব্লক’। এই ভাঙনের মাধ্যমে এক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে ক্ষমতা হস্তান্তর হলো আর এক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে, যা রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এনে দিল।

দীর্ঘদিন ধরে চলা অভ্যন্তরীণ বিরোধের পর এই বড় সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। জানা গেছে, বিধানসভায় তৃণমূল পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ এখন সম্পূর্ণভাবে চলে গিয়েছে ‘টিম ঋতব্রত’-র হাতে। দলের এই বিদ্রোহী অংশটি প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। তারা সাফ জানিয়েছে, তাদের নতুন এই পরিষদীয় দলের সঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো সম্পর্ক নেই। পরিষদীয় স্তরে অভিষেকের নেতৃত্ব বা সিদ্ধান্তকে তারা আর মান্যতা দিচ্ছে না।
তবে এই বিদ্রোহের মধ্যেও একটি বড় কৌশলগত অবস্থান নিয়েছেন বিদ্রোহী বিধায়ক ও নেতারা। দল ভাঙলেও তাঁরা দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন। তাঁরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মমতাই তাঁদের একমাত্র নেত্রী এবং তাঁর প্রতি আনুগত্যে কোনো খামতি নেই। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি মমতার বিরোধিতা না করে অভিষেকের নেতৃত্বকে নিশানা করাই এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য। এর ফলে দলের শীর্ষস্তরে ক্ষমতার ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে গেল।
এই ভাঙন তৃণমূলের জন্য এক বিশাল ধাক্কা। এতদিন যে দল একক নেতৃত্বে শক্ত হাতে পরিচালিত হতো, সেখানে এখন দুটি সমান্তরাল ক্ষমতার কেন্দ্র তৈরি হলো। একদিকে রইল মূল সংগঠন ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা, অন্যদিকে পরিষদীয় দলের রাশ নিজেদের হাতে নিয়ে চাপ বাড়াতে শুরু করল বিদ্রোহী শিবির। সাধারণ কর্মীদের মধ্যে এই ঘটনায় চরম বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পঞ্চায়েত বা লোকসভা নির্বাচনের আগে এই ধরণের ভাঙন দলের ভাবমূর্তি এবং সাংগঠনিক শক্তির ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দলের অন্দরের এই ক্ষমতার লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেন, এখন সেটাই দেখার। বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে এই দিনটি যে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।