হট টপিক
তৃণমূলে বিদ্রোহ, নতুন দলের জল্পনা তুঙ্গে
প্রকাশিত: ২ জুন, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা: সোমবার রাজ্যের নতুন ৩৫ জন মন্ত্রীর শপথগ্রহণের দিনই নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভার হাইভোল্টেজ ‘সই জাল’ বিতর্ক এবার এক সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা নিল। দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর এবার প্রায় ৫০ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে ‘নতুন তৃণমূল’ গঠনের পথে পা বাড়াচ্ছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। রাজনৈতিক মহলের খবর, নিজেদেরই আসল বিরোধী দল হিসেবে দাবি করে খুব শীঘ্রই তাঁরা স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দিতে চলেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যেই সই জালকাণ্ডে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নাম নেন। অভিযোগ ছিল, বিরোধী দলনেতার নাম প্রস্তাবের চিঠিতে একাধিক বিধায়কের সই জাল করা হয়েছিল এবং এই দুই নেতা তা স্পিকারকে জানিয়ে দেন। মুখ্যমন্ত্রী এই বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতৃত্ব ঋতব্রত ও সন্দীপনকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
দল থেকে ঘাড়ধাক্কা খাওয়ার পরেই পালটা রণকৌশল সাজাতে শুরু করেন এই দুই বিদ্রোহী নেতা। সূত্রের খবর, সোমবার বিকেলে কলকাতার একটি হোটেলে তৃণমূলের প্রায় ৫০ জন অসন্তুষ্ট বিধায়ককে নিয়ে এক গোপন বৈঠক সারেন ঋতব্রত। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বর্তমান দলটিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তাঁরা ‘আসল তৃণমূল’ বা ‘নতুন তৃণমূল’ নামে একটি পৃথক ব্লক তৈরি করবেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার যৌথ নেতৃত্বে এই নতুন দল পরিচালিত হবে। বিধানসভায় নিজেদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার তোড়জোড়ও শুরু হয়েছে।
তৃণমূলের এই বেনজির ভাঙন ও মুষলপর্ব নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তথা রাজ্য ক্যাবিনেটের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এই চরম রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে তৃণমূলের প্রতীক ও রেজিস্ট্রেশন বাতিলের দাবি তুলেছেন তিনি। দিলীপ ঘোষ বলেন, আমি অনেক আগেই বলেছিলাম, দলটা হারলে পুরোপুরি উঠে যাবে। আজ সেই আশঙ্কাই সত্যি হচ্ছে। এই দলটা এখন মাফিয়া, তোলাবাজ আর সমাজবিরোধীদের আখড়া হয়ে গেছে, সাধারণ কর্মীদের কোনো দাম নেই। দলটা যদি আগে পুলিশ আর আইপ্যাকের হাতে না যেত, তবে হয়তো আজ এই হাল হতো না।
মহারাষ্ট্রের শিবসেনা ভাঙনের মতোই কি এবার বাংলাতেও ‘রিয়েল তৃণমূল’ বনাম ‘মমতার তৃণমূল’ লড়াই শুরু হতে চলেছে? নাকি আইনি জটিলতায় থমকে যাবে বিদ্রোহীদের এই চাল? এই বড় প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা।

