বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

উত্তরপ্রদেশে তাপপ্রবাহে ৫ দিনে ৮০৫৬ মৃত্যু!

প্রকাশিত: ৪ জুন, ২০২৬
উত্তরপ্রদেশে তাপপ্রবাহে ৫ দিনে ৮০৫৬ মৃত্যু!
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে আবহাওয়ার রূপ আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। এর মধ্যেই উত্তরপ্রদেশকে নিয়ে আবহাওয়া ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি মারাত্মক পূর্বাভাস সাধারণ মানুষের বুক কাঁপিয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, উত্তরপ্রদেশে যদি একটানা মাত্র পাঁচ দিন তীব্র তাপপ্রবাহ বা ‘হিটওয়েভ’ চলে, তবে রাজ্যে ৮ হাজার ৫৬ জনের মৃত্যু হতে পারে। এই বিপুল সংখ্যক প্রাণহানির আশঙ্কা কোনো কাল্পনিক বিষয় নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেই এই বিপদের কথা জানিয়েছেন গবেষকেরা।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনের কারণে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গরমের তীব্রতা মারাত্মকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিপুল জনসংখ্যার কারণে সেখানে তাপপ্রবাহের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, টানা পাঁচ দিন ধরে যদি তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকে এবং লু হাওয়া বয়, তবে তা সাধারণ মানুষের সহ্যক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং যাঁরা প্রতিদিন রোদে খোলা আকাশের নীচে কাজ করেন, তাঁদের জীবন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে।
চিকিৎসকদের মতে, তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে মানুষের শরীরে দ্রুত জলের ঘাটতি বা ‘ডিহাইড্রেশন’ দেখা দেয়। এর ফলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং মানুষ ‘হিট স্ট্রোক’-এর শিকার হয়। হিট স্ট্রোক হলে শরীরের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলি কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে, যা অত্যন্ত দ্রুত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একটানা পাঁচ দিন এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে গ্রামীণ ও শহর এলাকায় চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর চরম চাপ পড়বে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে বহু মানুষ প্রাণ হারাতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের এই ভয়ঙ্কর রিপোর্টের পর উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরের অন্দরে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই সম্ভাব্য বিপর্যয় রুখতে এখন থেকেই আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পরিবেশবিদেরা। গরমের দিনে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের রোদে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শরীর ঠান্ডা রাখতে প্রচুর জল, ওআরএস এবং তরল খাবার খাওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। এই পূর্বাভাসকে সতর্কবার্তা হিসেবে ধরে নিয়ে যদি এখন থেকেই উপযুক্ত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে আগামী দিনে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।