বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

সাপের সঙ্গে চার ঘণ্টা, রক্ষা বৃদ্ধের

প্রকাশিত: ৩ জুন, ২০২৬
সাপের সঙ্গে চার ঘণ্টা, রক্ষা বৃদ্ধের
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ওড়িশার বৌধ জেলার আদেনিগড় গ্রামে ঘটে গেল এক রোমহর্ষক ও শিউরে ওঠার মতো ঘটনা। গভীর রাতে এক পক্ষাঘাতগ্রস্ত বৃদ্ধের বিছানায় ঢুকে পড়েছিল একটি আস্ত বিষধর সাপ। শুধু বিছানায় ঢোকাই নয়, টানা প্রায় চার ঘণ্টা ধরে সাপটি ওই বৃদ্ধকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রাখে। অবশ শরীরে নড়াচড়া করার ক্ষমতা না থাকায়, চোখের সামনে নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও এক চরম আতঙ্কের প্রহর গুনতে হয় তাঁকে। তবে শেষ পর্যন্ত অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত বৃদ্ধের নাম কৃষ্ণচন্দ্র সাহু। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাত বা প্যারালাইসিসের কারণে শয্যাশায়ী। ঘটনার দিন রাতে তিনি নিজের ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন। গভীর রাতে হঠাৎই তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। চোখ খুলতেই তিনি টের পান যে, তাঁর শরীরের উপর ঠাণ্ডা কোনো একটি জীব নড়াচড়া করছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি বুঝতে পারেন, সেটি আর কিছুই নয়—একটি অত্যন্ত বিষধর সাপ। প্যারালাইসিসের কারণে তাঁর শরীর অবশ থাকায়, সাপ দেখেও চিৎকার করার বা বিছানা থেকে উঠে পালানোর কোনো উপায় ছিল না তাঁর।
এরপর বিষধর সাপটি প্রথমে তাঁর একটি হাত শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরে। শরীরের বাকি অংশটি বিছানার পাশে থাকা একটি চেয়ারের সঙ্গে জড়িয়ে রাখে। ফলে বৃদ্ধ পুরোপুরি বন্দি হয়ে পড়েন। একদিকে রাতের অন্ধকার, অন্যদিকে বিষধর সাপের মরণফাঁস—এই দুইয়ের মাঝে অসহায়ভাবে কাটাতে হয় তাঁকে। একটু ভুল নড়াচড়া হলেই ছোবল মারতে পারত সাপটি। এই চরম মৃত্যুভয় বুকে নিয়ে টানা চার ঘণ্টা একই অবস্থায় স্থির হয়ে পড়ে থাকেন কৃষ্ণচন্দ্রবাবু।
ভোরবেলা পরিবারের সদস্যরা ঘরে ঢুকতেই এই হাড়হিম করা দৃশ্য দেখে আঁতকে ওঠেন। তাঁরা বুঝতে পারেন, একটু চিৎকার বা হুলস্থুল করলে সাপটি রেগে গিয়ে কামড়ে দিতে পারে। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সাপটিকে তাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয় এবং বৃদ্ধকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আশ্চর্যজনকভাবে, এতক্ষণ জড়িয়ে থাকার পরেও সাপটি বৃদ্ধকে একটি ছোবলও মারেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বৃদ্ধ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ায় বিন্দুমাত্র নড়াচড়া করতে পারেননি। আর সাপ সাধারণত নিজে আঘাত বা বিপদের আশঙ্কা না পেলে আক্রমণ করে না। নড়াচড়া না করার এই বাধ্যবাধকতাই শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধের প্রাণ বাঁচিয়ে দিল।