বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

বন্ধের মুখে বিদ্যাসাগরের জন্মভিটের বীরসিংহ বালিকা বিদ্যালয়, অন্ধকারে ৩২০ ছাত্রীর ভবিষ্যৎ

প্রকাশিত: ২৯ মে, ২০২৬
বন্ধের মুখে বিদ্যাসাগরের জন্মভিটের বীরসিংহ বালিকা বিদ্যালয়, অন্ধকারে ৩২০ ছাত্রীর ভবিষ্যৎ
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের অগ্রদূত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মভিটে বীরসিংহ গ্রামে তৈরি হয়েছিল তাঁরই নামাঙ্কিত ‘বীরসিংহ বিদ্যাসাগর বালিকা বিদ্যাপীঠ’। কিন্তু আজ উপযুক্ত সংখ্যায় শিক্ষিকা এবং নূন্যতম পরিকাঠামোর চরম অভাবে সেই স্কুলটিই কার্যত বন্ধ হওয়ার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যাসাগরের নিজের গ্রামের এই নারীশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন করুণ দশায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে ছাত্রীদের অভিভাবকেরা। পঠনপাঠন প্রায় সম্পূর্ণ লাটে ওঠায় ৩২০ জন ছাত্রীর ভবিষ্যৎ এখন গভীর অন্ধকারের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরেই স্থায়ী শিক্ষিকার অভাব রয়েছে। যে বিদ্যাসাগর মহাশয় সারাজীবন নারীশিক্ষার প্রসারে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছিলেন, তাঁরই স্মৃতিবিজড়িত বীরসিংহ গ্রামে মেয়েদের এই স্কুলটি আজ অভিভাবকহীন। শিক্ষিকা না থাকায় নিয়মিত ক্লাস হয় না, যার ফলে ছাত্রীদের পড়াশোনা পুরোপুরি থমকে গেছে। এর পাশাপাশি স্কুলের পরিকাঠামোও অত্যন্ত বেহাল। পানীয় জল, শৌচাগার থেকে শুরু করে ক্লাসরুমের অভাব—সব মিলিয়ে ছাত্রীদের স্কুলে আসার পরিবেশটুকুও আর অবশিষ্ট নেই। অথচ বিদ্যাসাগরের ব্যবহৃত চেয়ার, টেবিল, তক্তাপোষ সহ অন্যান্য আসবাবপত্র নিয়েই ১৯৭১ সালে শুরু হয় ওই স্কুলটি। স্কুলের শুরুর পর থেকে পাশাপাশি গ্রামগুলি থেকে মহাপুরুষের জন্মভিটের ওই স্কুলে পড়ার জন্য লাফিয়ে-লাফিয়ে ভিড় বাড়তে শুরু করে। একসময় ওই স্কুলে ছাত্রীর সংখ্যা ৬০০’র আশেপাশে পৌঁছে গিয়েছিল। শিক্ষিকার সংখ্যা ছিল ১২ জন, তিন জন শিক্ষাকর্মী। প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী শুভ্রা মুখোপাধ্যায় একসময় ওই বালিকা বিদ্যাপীঠেই শিক্ষকতা করেছিলেন।
বর্তমানের চরম অব্যবস্থার প্রতিবাদে এবং স্কুল বাঁচানোর দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকার মানুষ। অভিভাবকদের অভিযোগ, বারবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। বিদ্যাসাগরের জন্মভূমিতে নারীশিক্ষার এমন অবমাননা তাঁরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক অভিভাবকই এখন বাধ্য হয়ে মেয়েদের অন্য স্কুলে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন। 
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, অবিলম্বে স্থায়ী শিক্ষিকা নিয়োগ না করা হলে বিদ্যাসাগরের ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। স্কুলের এই সংকটজনক পরিস্থিতি নিয়ে ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাটের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে নেন। বিধায়ক বলেন, বিষয়টি আমরা আগে থেকেই জানতাম। কিন্তু সরকারি নিয়মকানুন এবং আমাদের হাত-পা বাঁধা থাকায় এত দিন চূড়ান্ত কিছু করতে পারিনি। তবে বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। 
বিদ্যাসাগরের দ্বিশতবর্ষ পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তাঁর নিজের গ্রামের বালিকা বিদ্যালয়ের এই দশা রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর এক মস্ত বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে। বিদ্যালয়ের টিচার-ইনচার্জ শ্রাবণী দাস জানান, উপযুক্ত পরিকাঠামোর  ও শিক্ষিকার অভাবে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালানো কার্যত অগ্নিপরীক্ষার শামিল। কোনো শিক্ষিকা হঠাৎ ছুটি নিলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। তখন নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুল ছুটি দিয়ে দিতে বাধ্য হন তাঁরা।

আরও হট টপিক