হট টপিক
বাংলায় বিজেপি মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ
প্রকাশিত: ১ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার বহুল প্রতীক্ষিত সম্প্রসারণের কাজ সোমবার অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতার লোকভবনে আয়োজিত একটি জাঁকজমকপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে নতুন মন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করেন। এই অনুষ্ঠানে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত ছিলেন। তাঁর উপস্থিতিতে রাজ্যের মাননীয় রাজ্যপাল আরএন রবি মোট ৩৫ জন নবনিযুক্ত মন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করান।
এদিনের মন্ত্রিসভার এই নতুন তালিকায় অভিজ্ঞ এবং নতুন মুখের এক চমৎকার ভারসাম্য লক্ষ্য করা গিয়েছে। এই ৩৫ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে এবং ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। জাতীয় সঙ্গীত এবং ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনির মাধ্যমে অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এরপর রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়াল একে একে নতুন মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করেন এবং তাঁরা মঞ্চে এসে রাজ্যপালের কাছ থেকে শপথ নেন।
এবারের মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে ভৌগোলিক ভারসাম্য ও আঞ্চলিক চাহিদাকে বিশেষভাবে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সবথেকে বড় চমক ও বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে উত্তরবঙ্গ। দীর্ঘদিনের অনুন্নয়নের ক্ষোভ দূর করতে রাজ্যের এই প্রান্ত থেকে এক ধাক্কায় মোট ১০ জন বিধায়ককে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি সমান গুরুত্ব পেয়েছে জঙ্গলমহলও। জঙ্গলমহলের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও মেদিনীপুর জেলা মিলিয়ে মোট ৬ জন বিধায়ককে মন্ত্রী করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে লোকসভা ও বিধানসভা এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণকে খুব নিখুঁতভাবে মেলানো হয়েছে। জঙ্গলমহল ও উত্তরবঙ্গের মতো প্রান্তিক এলাকাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে সরকার এই বার্তা দিতে চাইল যে, উন্নয়নের আলো এবার রাজ্যের প্রতিটি কোণায় পৌঁছাবে। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষ হতেই নতুন মন্ত্রীদের অভিনন্দন জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নতুন ও শক্তিশালী দল আগামী দিনে বাংলার মানুষের সার্বিক উন্নয়নে এবং সরকারি কাজকে আরও গতিশীল করতে সম্পূর্ণ দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করবে।
পূর্ণমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন ১৩ জন — তাপস রায় (মানিকতলা), মনোজ ওরাওঁ (কুমারগ্রাম), অর্জুন সিংহ (নোয়াপাড়া), গৌরীশঙ্কর ঘোষ (মুর্শিদাবাদ), দীপক বর্মণ (ফালাকাটা), শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (বিধাননগর), অরূপকুমার দাস (কাঁথি দক্ষিণ), স্বপন দাশগুপ্ত (রাসবিহারী), জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (সিউড়ি), কল্যাণ চক্রবর্তী (খড়দহ), শঙ্কর ঘোষ (শিলিগুড়ি), অজয় পোদ্দার (কুলটি), দুধকুমার মণ্ডল (ময়ূরেশ্বর)।
• স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী - মালতি রাভা রায় (তুফানগঞ্জ), রাজেশ মাহাতো (গোপীবল্লভপুর), ইন্দ্রনীল খাঁ (বেহালা পশ্চিম)।
• প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন - অশোক দিন্দা (ময়না), কৌশিক চৌধুরী (রায়গঞ্জ), জুয়েল মুর্মু (হবিবপুর), হরেকৃষ্ণ বেরা (তমলুক), শান্তনু প্রামাণিক (ভগবানপুর), মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র (বর্ধমান দক্ষিণ), উমেশ রাই (হাওড়া উত্তর), পূর্ণিমা চক্রবর্তী (শ্যামপুকুর), ভাস্কর ভট্টাচার্য (শ্রীরামপুর), দিবাকর ঘরামি (সোনামুখী), নাদিয়ারচাঁদ বাউড়ি (পারা), গার্গী দাস ঘোষ (কান্দি), অমিয় কিস্কু (নয়াগ্রাম), কলিতা মাজি (আউশগ্রাম), বিরাজ বিশ্বাস (করণদিঘি), সুমনা সরকার (বলাগড়), আনন্দময় বর্মণ (মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি), বিশাল লামা (কালচিনি), দীপঙ্কর জানা (কাকদ্বীপ)।

