সর্বশেষ খবর
৫১৭ বছরে বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির পুজো, জলপাইগুড়িতে আজও অটুট রাজকীয় ঐতিহ্য
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: রাজত্ব গিয়েছে, ফিকে হয়েছে জৌলুসও। কিন্তু ইতিহাসের পাতা থেকে এতটুকু হারিয়ে যায়নি উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর রাজ এস্টেটের শতাব্দীপ্রাচীন দুর্গাপুজো। চলতি বছরে ৫১৭তম বর্ষে পদার্পণ করল এই রাজকীয় পুজো, যা আজও জেলাজুড়ে এক অনন্য ও গৌরবময় ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। ইতিহাস ঘাটলে জানা যায়, কোচ রাজবংশের বীর যোদ্ধা শিশু সিংহ এবং বিশু সিংহ ছিলেন এই বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির প্রতিষ্ঠাতা। আজ থেকে বহু বছর আগে, ১৫০৯ সালে রাজা শিশু সিংহের হাত ধরেই এই রাজবাড়িতে প্রথম দুর্গাপুজোর প্রচলন হয়েছিল।
সময়ের নিয়মে আজ রাজপরিবারের সদস্যসংখ্যা হাতে গোনা মাত্র কয়েকজনে ঠেকেছে। তবে ইতিহাসের সেই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে খামতি নেই। বর্তমান কুল-পুরোহিত শিবু ঘোষালের তত্ত্বাবধানে বছরভর নাটমন্দির ও রাজবাড়ির পুঙ্খানুপুঙ্খ দেখভাল চলে। এই পুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল, এখানে দেবী দুর্গা কোনও নির্দিষ্ট চার বা পাঁচ দিনের জন্য আসেন না, তিনি এখানে নিত্যপুজিতা। রাজবাড়ির অন্দরে একটি বহু প্রাচীন ছোট সোনার দুর্গা প্রতিমা রয়েছে, যার প্রতিদিন নিয়ম মেনে ভক্তিভরে পুজার্চনা করা হয়।
শারদোৎসবের দিনগুলিতে রাজবাড়ির ঠাকুরদালানে যে মূল মৃন্ময়ী প্রতিমা গড়া হয়, তার রূপ এককথায় চোখ ধাঁধানো। প্রায় ১৫ ফুট উঁচু এই প্রতিমার গায়ের বর্ণ তপ্ত-কাঞ্চনের মতো উজ্জ্বল। এখানে দেবী দুর্গা সম্পূর্ণ সালাঙ্কারা রূপে ধরা দেন। মায়ের পরনে থাকে খাঁটি বেনারসি শাড়ি, হাতে ও কানে শোভা পায় সোনা-রুপোর ভারী গহনা এবং গলায় পরানো হয় ঐতিহ্যবাহী নবরত্নের হার। রাজ আমল না থাকলেও, এই রাজকীয় প্রতিমা দর্শন করতে আজও জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়িতে ঢল নামে হাজার হাজার মানুষের।

